kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

দেবীদ্বারে ভয়ংকর রক্তখেলা

তিনজনকে হত্যা ও ঘাতক নিহত হওয়ার ঘটনায় ২ মামলা

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রকাশ্যে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মা ও ছেলেসহ তিনজনকে হত্যাসহ আরো সাতজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় একজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত হওয়ার ঘটনায় এক হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে নিহত নাজমা বেগমের ছোট ভাই বাদী হয়ে রাধানগর গ্রামের মোখলেছুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ ব্যক্তিকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

গত বুধবার সকালে রাধানগর গ্রামের মুর্তুজ আলীর ছেলে রিকশাচালক মোখলেছুর রহমান ধারালো দা দিয়ে আকস্মিক লোকজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার, মৃত শাহ আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তাঁর দশ বছরের ছেলে আবু হানিফ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ওই সময় ঘাতকের দায়ের কোপে আহত হয় আরো ছয়জন। তাদের মধ্যে মাজেদা বেগম ও জাহানারা বেগম নামের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। পরে এলাকাবাসী ঘাতক মোখলেসকে ধরে গণপিটুনি দিলে সে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

‘ঘাতক’ নিয়ে নানা প্রশ্ন : প্রকাশ্যে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার পর স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রশ্ন—ঘাতক মোখলেছুর রহমান হঠাৎ রক্তের খেলায় মেতে উঠল কেন? মোখলেছ প্রায় ১২ বছর আগে পাশের তালতলা গ্রাম থেকে এসে রাধানগর গ্রামে মামার বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সে এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। এরই মধ্যে তার বড় মেয়ে সালমার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মারুফ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে মাইশার বয়স তিন বছর। পেশায় রিকশাচালক হলেও এরই মধ্যে একতলা ভবনের মালিক বনে যাওয়ায়ও এলাকায় তার আয়ের উৎস নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে—মঙ্গলবার রাতে বোরকা পরিহিত নারীসহ কয়েকজন তার বাড়িতে কেন এসেছিল? সে আগে থেকেই দোকানে দায়ের অর্ডার কেন দিয়ে রেখেছিল?

মন্তব্য