kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

কালিয়ার যোগানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম

নড়াইল প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নানামুখী অনিয়ম আর অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার যোগানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করিয়ে কয়েক গুণ টাকা নিয়ে এসএসসির ফরম পূরণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের দুপুরের খাবার রান্নার গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল আদায়, এমনকি প্রশংসাপত্র নিতেও আদায় করা হচ্ছে জনপ্রতি দুই শ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, টানা ২২ বছর ধরেই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়ম করে আসছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম আলমগীর হোসেন। আবার স্কুলের গাছ কেটে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া এবং স্কুলের নামে অন্যের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে আছেন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আব্বাস আলী খান ও মিনহাজুর রহমান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মারমুখী ভঙ্গিতে আব্বাস আলী বলেন, ‘সাংবাদিক এসে কী করবে? এর আগে কত সাংবাদিক আসল! এটা স্কুলের ব্যাপার, আমরা ম্যানেজিং কমিটি যা ঠিক করব তাই হবে।’

স্থানীয়রা জানায়, ‘২০০৫ সালে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক মিয়ার সই জাল করে বিদ্যালয়ের দেড় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আলমগীর। ওই ঘটনার পর  প্রধান শিক্ষক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আলমগীর কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে এসে শুরু করেন ‘শিক্ষা বাণিজ্য’।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যোগানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ১৩৮ জন শিক্ষার্থী  অংশ নেয়। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১২৩ জনের মধ্যে ১০৬ জনকেই এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় বিভিন্নভাবে অকৃতকার্য দেখানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ চার হাজার এক শ টাকা করে আদায় করা হয়।

চর যোগানিয়া গ্রামের আরিফ ও তাছলিমা খানম, পুকুরিয়া গ্রামের মারিয়া খানম, ডুমুরিয়া গ্রামের গনি মিয়াসহ কমপক্ষে বিশজন শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ করেছে। অভিভাবক নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে দুই দফায় চার শ টাকা নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অথচ মেয়ের বেতন ও পরীক্ষার ফি ঠিকই আদায় করা হচ্ছে।’

স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত দশজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ‘স্যাররা দুপুরে গ্যাসে রান্না করেন। এই বাবদ পাঁচ টাকা এবং বিদ্যুৎ বিলসহ মোট ১০ টাকা নেওয়া হয় বেতনের সঙ্গে।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য আমীর আলী বলেন, ‘ভবন সংস্কারের নামে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, বেঞ্চ ও চেয়ার তৈরির নামে বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা বড় বড় গাছ বিক্রি করে পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।’

নড়াইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সায়েদুর রহমান বলেন, ‘যোগানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারে বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা