kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

নদীপারে অবৈধ স্থাপনা সিলেটে ২৫১ জন দখলদার চিহ্নিত

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দখলদারের নাম লেখা হয়েছে ‘অজ্ঞাতনামা’

সিলেট অফিস   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নদীপারে অবৈধ স্থাপনা সিলেটে ২৫১ জন দখলদার চিহ্নিত

সিলেট মহানগর এলাকা এবং আরো ছয়টি উপজেলায় নদীর পার দখল করে প্রায় সাড়ে তিন শ অবৈধ স্থাপনা তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের জন্য দায়ী ২৫১ জন দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জরিপকাজ শুরু করেছে সিলেটের জেলা প্রশাসন। জরিপকাজ শেষ হলে নদীর পানিপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এসব স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ১৪ জুন সিলেট জেলা প্রশাসনের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় পাউবো। প্রতিবেদনে উল্লিখিত স্থাপনাগুলোর মৌজা, খতিয়ান যাচাই-বাছাই করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের শুরু দিকে পাউবো আরেকটি তালিকা জমা দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকা পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে জরিপকাজ শুরু করা হয়েছে। এরপর দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ শুরু হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৩ জন, জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের সারি-গোয়াইন বাঁধ এলাকায় ২২ জন, একই উপজেলার ২০ ভেন্ট রেগুলেটর এলাকায় ২৫ জন, ফেরিঘাট এলাকায় ৫৩ জন ও বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের কুশিয়ারা নদীর পার দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে ২০ জন। এ ছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর বুধবারী বাজার এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পার দখল করে ২২ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পার দখল করে সাতজন, কানাইঘাট উপজেলার সুরমা নদীর বানীগ্রাম এলাকায় ৪৩ জন, কানাইঘাট পৌরসভা এলাকায় ২৫ জন এবং জকিগঞ্জের সুরমা নদীর পার দখল করে ১১ জন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় অবৈধ দখলদারদের নাম চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে অবৈধ স্থাপনার নাম ও অবস্থানের উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দখলদারের নাম লেখা হয়েছে ‘অজ্ঞাতনামা’। আর যেসব ক্ষেত্রে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে ডাক নাম দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলার নদী দখলদারদের ক্ষেত্রে নাম, বাবার নাম, গ্রামসহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নদী দখলকারীর বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, সিলেটের নদ-নদীতে স্থায়ী আবাসন ছাড়াও অপরিকল্পিত স্থাপনার মাধ্যমেও নদ-নদীর পার অবাধে দখলের শিকার হচ্ছে। এসব পাকা, আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে সরু হয়ে আসছে নদীর প্রস্থ। নদীর পানিপ্রবাহে বাধা প্রদান করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে অটো রাইসমিল, ওয়ার্কশপ, মুদি দোকান, গুদামঘর, রেস্টুরেন্ট, পোল্ট্রি ফার্ম, চাল ও শুঁটকির আড়ত প্রভৃতি ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব স্থাপনার বেশির ভাগই টিনশেড, পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা। এসব নদী এলাকায় দৈর্ঘ্যে ৩০ মিটার থেকে শুরু করে ৪৫০ মিটার পর্যন্ত নদীর পার দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, যেসব নদ-নদী এরই মধ্যে মৃত বা বিলুপ্ত, সেগুলো এ হিসাবের বাইরে। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলার নদীর পার দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

তালিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেছেন, ‘সিলেট জেলায় নদীর পারে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে স্থাপনা নির্মাণ করা অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনে দেওয়া হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোরও তালিকা করা হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের তালিকা করা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। মৌজাসহ যাবতীয় বিষয় যাচাই করে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতা করবে।’

মন্তব্য