kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

অবৈধ নসিমন-করিমন

তৈরি হচ্ছে কুষ্টিয়ার ৫০টি কারখানায়

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে উঠেছে অবৈধ যান নসিমন-করিমন তৈরির অসংখ্য কারখানা। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এসব কারখানায় দেশীয় লোহা ব্যবহার করে অবাধে তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে প্রতিদিন মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন কিভাবে চলাচল করছে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজার, বটতৈল, আইলচারা বাক্সব্রিজ ও বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকার অন্তত ৫০টি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমন, আলমসাধু, আগলামন,  ট্রলিসহ অন্যান্য যানবাহন। মোটরযান আইন ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে জনজীবনের জন্য চরম হুমকি ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহন। লোহার অ্যাঙ্গেল এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে চেসিসসহ তৈরি এসব যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া এসব যানবাহনের ব্রেক সিস্টেম ও ইঞ্জিনের গতি তাৎক্ষণিক কমানোর যান্ত্রিক পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ। সেচ কাজে ব্যবহার করা ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিন সংযুক্ত বেপরোয়া গতির এই যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি প্রায় আড়াই শ ইটভাটায় ইট তৈরির মাটি ও কাঠ সরবরাহ এবং ভবন নির্মাণে ইট সরবরাহে এসব যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ চালকরাই এসব যানবাহনে যাত্রী পরিবহন এবং ইট, কাঠ, পাথর, বালু, রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেড় থেকে আড়াই টন পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব যানবাহনের চালকের লাইসেন্স কিংবা গাড়ি চালনায় নেই কোনো দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ।

নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের মালিকরা জানান, কুষ্টিয়া সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন অসাধু সদস্যকে মাসোয়ারার বিনিময়ে তাঁরা মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাইওয়েতে চলাচলকারী এসব যানবাহনের কিছুসংখ্যক জব্দ করা হলেও অধিকাংশ যান থেকে মাস চুক্তিতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা ট্রাফিক পুলিশের অসাধু সদস্যরা আদায় করছেন।

অবশ্য কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রেজাউল করিম অবৈধ যানবাহন চালকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, হাইওয়েতে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে পুলিশি অভিযান ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে চলাচল বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মন্তব্য