kalerkantho

বিচারপ্রার্থীর প্রশ্ন

আর কত দিন ঘুরতে হবে আদালতে?

ত্রুটিপূর্ণ মামলা চলছে আট বছর ধরে

আশরাফ-উল-আলম   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার ছিলেন মানিকগঞ্জের মাসুদুর রহমান। ২০০৮ সালের ১১ অক্টোবর তিনি চাকরিতে যোগদান করে মানিকগঞ্জ এলাকায় কাজ শুরু করেন। তিন বছর কাজ করার পর ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁর কাজ সন্তোষজনক নয়।

অব্যাহতিপত্রে মালিকপক্ষ মাসুদুর রহমানকে তাঁর সমস্ত দায় বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু সেটা না করায় ২০১১ সালের ১০ জুলাই কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের একটি মামলা করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে।

এরপর গত আট বছর ধরে মামলাটি চলছে ঢাকার একটি আদালতে। এই আট বছরে দুজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি সাক্ষীরা আদালতে হাজির হননি। এ অবস্থায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে আছেন মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি অন্য একটি কম্পানিতে চাকরি করছেন। ওই চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। বছরের পর বছর মামলা চলায় তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক কষ্টে ভুগছেন উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, ‘আর কত দিন এভাবে আদালতে ঘুরতে হবে?’

মামলায় বলা হয়, এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা মাসুদুর রহমানের কাছে কম্পানির পাওনা। সেটা না দিয়ে তিনি কম্পানি ছেড়ে গেছেন। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও তিনি পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় মামলা করা হলো। ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত-৩৪ এ মামলাটি বিচারাধীন আছে।

মাসুদুর রহমান জানান, মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার হিসেবে কাজ করায় বাকিতে বিভিন্ন দোকানে ওষুধ দেওয়ার বিধান কম্পানির থাকে। এটা পরবর্তী কর্মকর্তাকে আদায় করতে হয়। তিনি চাকরিচ্যুত হওয়ায় দেনাদাররা আর তাঁকে বাকি টাকা দেবে না এটাই স্বাভাবিক। দোকানদারদের কাছে পাওনা টাকার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে মামলা করা হয়েছে। গত আট বছর ধরে এই মামলা চলছে। কিন্তু মামলা শেষ হচ্ছে না। দুজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যরা আদালতে আসেন না।

মাসুদুর রহমানের আইনজীবী হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মাসুদুর রহমান চাকরি করতেন। তিনি বাকিতে কম্পানির ওষুধ সরবরাহ করেছেন। এটা ছিল নিয়মতান্ত্রিক। এতে তিনি প্রতারণা করেছেন এমনটা প্রমাণ হয় না। আবার দোকানিদের কাছে থাকা টাকার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা বেআইনি। এ রকম মামলা আমলে নেওয়াই ঠিক না। তার পরও মামলা চলছে আট বছর। বাদীপক্ষ হয়রানি করতে মামলা করেছে, আসামির হয়রানি হচ্ছে। ক্রটিপূর্ণ মামলা এত দিন চলায় আসামি অবিচারের শিকার হচ্ছেন।

মন্তব্য