kalerkantho

ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. শওকত হোসেন ওরফে জসিমকে (৩৮) কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এমনকি হামলার পর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় স্কুলের একটি কক্ষে তালা দিয়ে আটকে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবার ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম মিয়া জানান, জসিম মেম্বারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সিদ্দিক মাস্টার ও মানিক মাস্টারের লোকজনের মধ্যে জমিজমা, আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শওকত মানিক মাস্টারের পক্ষের লোক।

শওকতের মেয়ে জিদনী আক্তার কালের কণ্ঠকে জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে তার বাবা বাড়ি থেকে বের হন। রাত সোয়া ৮টার দিকে তার মা ফোন করলে জানান তিনি বাড়ি আসছেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পায় তার বাবার ওপর হামলা হয়েছে। খোঁজাখুঁজির পর যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যালে নেওয়া হয়।

প্রতিপক্ষের লোকজন শওকতের দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল বলে জানিয়েছে জিদনী। সে বলে, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার সময় হত্যাকারীদের নাম বলে গেছে। জাকির, মোর্শেদ, জসিম, ফরহাদসহ আরো কয়েকজন মিলে হত্যা করেছে।’ জিদনী তার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানায়।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. নূর আলম বলেন, ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই ওই ব্যক্তির অবস্থা অবনতির দিকে যায়। ওই ব্যক্তির দুই পায়ের একাধিক রগ কাটা ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থান থেঁতলানো এবং মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আক্রান্ত হওয়ার পরপরই শওকত মেম্বারকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তখন উনাকে চিকিৎসা করানোর কথা বলা হয়। রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান বলে খবর পেয়েছি।’

মন্তব্য