kalerkantho

যোগ্য উত্তরাধিকারের সংকটে ময়মনসিংহ

শিল্প সংস্কৃতি চর্চা

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ময়মনসিংহ’ নামের সঙ্গে সঙ্গে একসময় উঠে আসত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বরেণ্য গুণীজনদের নাম। তাঁদের অনেকেই আজ প্রয়াত। কেউ বা বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। কেউ কেউ জীবনের পড়ন্ত বেলার পথচারী। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কেউ কেউ অন্য শহরের বাসিন্দা। কিন্তু সেই গুণীজনের শূন্যস্থানটা আর সহজে পূরণ হচ্ছে না, বরং দিনে দিনে আরো বেড়ে চলেছে। শিল্প-সংস্কৃতির সব শাখাতেই এ নগরে এখন বড় দুশ্চিন্তা হলো যোগ্য উত্তরাধিকারীর অভাব।

ময়মনসিংহের একাধিক বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সেই স্বাধীনতাপূর্বকাল থেকে এ নগরে বহু গুণীজনের বিচরণ। ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও এ নগরে ছিলেন অনেক অভিভাবকতুল্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এ গুণী মানুষগুলো প্রয়াত হয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে অনেকটা শূন্যতায় ফেলে গেছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ময়মনসিংহ নগরে শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাঁদের অবদান এখনো স্মরণীয় তাঁরা হলেন ওস্তাদ মিথুন দে, বিজয় ভট্টাচার্য্য, এমদাদুল হক, আলোকময় নাহা, এম এন আলম তোতা, এ এফ এম বদিউজ্জামান, লুৎফর রহমান বাবু, টি টি মেজবাহ উদ্দিন, লালু ভাই, ফজর আলী, রমেশ দাস, অধ্যাপক সুধীর দাস, আতাউর রহমান হীরণ, মোতাহার হোসেন বাচ্চু, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান আনাহোলি, নারায়ণ বসাক, শিউলি দে, দীলিপ দে, যোগেশ দাস, পীযূষ কিরণ পাল, ইউনুছ আহমেদ বাবলু, জীবন কৃষ্ণ, সুরুজ আলী, আব্দুল কাদের, নীলু, আলী হায়দার খান কাচ্চু, বাদল চন্দ, নারায়ণ দাস, আব্দুর রশিদ মিয়া, অনিল তালুকদার, বদরুল হুদা ও কেনু রায়। তাঁরা ছিলেন এ শহরে নাটক, নৃত্য অথবা সংগীতজগতের প্রাণপুরুষ, সংগঠক কিংবা পৃষ্ঠপোষক। এখনো প্রয়াত এ গুণীজনদের অনেক সহকর্মী, সতীর্থ ও শিষ্য স্থানীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁরা হলেন ওস্তাদ সুনীল ধর, মোফাজ্জল হোসেন বালা, ওস্তাদ পবিত্র মোহন দে, আ ব ম নুরুল আনোয়ার, সুমিতা নাহা, সুনীল কর্মকার, বিজন তোপদার, সমীর চন্দ কটন, এ কে সাহাবুদ্দিন খান, আমীর আহম্মেদ চৌধুরী রতন, শাহাদাত হোসেন খান হিলুু, অরবিন্দ সরকার জীবন, ফেরদৌস হীরা, অধ্যাপক হেলালুল ইসলাম, আবুল কাশেম, অরুণ ভট্টাচার্য নয়ন, মণি ভট্টাচার্য, গীতা রহমান, গৌরী, মোশাররফ করিম, ফরিদ আহম্মদ দুলাল, শামসুল ফয়েজ, আশরাফ মীর, সাইফুল ইসলাম দুদু, বিজন তোপদার, শাহ্ সাইফুল আলম পান্নু, ডা. তারা গোলন্দাজ, ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল, আব্দুল হক শিকদার, ইব্রাহীম খলিল, আজাহার হাবলু, নিজাম মল্লিক নিঝু, রুবিনা আজাদ, নজীব আশরাফ, আনোয়ারা সুলতানা, সারওয়ার কামাল রবীন, আমজাদ দোলন, পার্থ সারথী উকিল, তাপস চক্রবর্তী, শাহজাদা, মানস তালুকদার, নাজমুল হক লেনিন প্রমুখ। যদিও তাঁদের কয়েকজনের অবস্থান এখন ময়মনসিংহ শহরে স্থায়ী নয়। বার্ধক্যজনিত কারণেও কয়েকজন নীরব।

সংশিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে আজ পর্যন্ত ময়মনসিংহ শহরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতে অসংখ্য সংগঠন গড়ে উঠেছে। এগুলো হলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বহুরূপী, নজরুল একাডেমি, জেলা নজরুল সেনা, মুকুল ফৌজ, ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ, আলোকময় নাহা সংগীত বিদ্যালয়, শিশু তীর্থ আনন্দ ধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তন, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, শাপলা সংসদ, শহীদ রতন সংসদ, ময়মনসিংহ সংগীত বিদ্যালয়, সন্দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ফোরাম, লোক কৃষ্টি সংস্থা, চারণ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, হোমাগ্নি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক কমান্ড, মুক্তবাতায়ন পাঠ চক্র, সকাল কবিতা পরিষদ, লৌহিত্য সাহিত্য গোষ্ঠী, শুক্রবাসরীয় সাহিত্য সংসদ, ময়মনসিংহ থিয়েটার, অক্ষর, আরক, যাত্রী, জলদ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, মিতালী সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, অনন্যা সাহিত্য পরিষদ, অনির্বাণ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, ব্রহ্মপুত্র সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, চেতনা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, চরৈবেতি, নাগরিক সাংস্কৃতিক সংস্থা, বিদ্রোহী, লেখক কল্যাণ সমিতি, আলোকধারা, নাট্যাঙ্গন নাট্য পরিবার, মুখোশ নাট্য সংস্থা, আঙিনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, ঝিলিক নাট্য সংস্থা, নৃত্যযতন, নটরাজ সংগীত বিদ্যালয়, স্বরশিল্প আবৃত্তি ও উচ্চারণ চর্চা কেন্দ্র, শব্দ আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, অনুপ্রাস, আবৃত্তি নিকেতন, দীপন সাংস্কৃতিক সংস্থা, উদয়দিগঙ্গন আবৃত্তি পরিবার, অনসাম্বল থিয়েটার প্রভৃতি।

মন্তব্য