kalerkantho

রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা নিয়ন্ত্রণ আজ থেকে

রিকশা মালিকদের আপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো। তবে সিটি করপোরেশনের বৈধ লাইসেন্স থাকা রিকশা বন্ধে আপত্তি রয়েছে রিকশা মালিকদের। বৈধ রিকশা ঢাকার যেকোনো সড়কে চলাচলের অনুমতি চায় তারা। বৈধ রিকশা চলাচলে বাধা দেওয়া হলে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রিকশা মালিকদের সংগঠন।

রিকশা বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে এমপি, কাউন্সিলর, পুলিশ এবং রিকশা শ্রমিক ও মালিকদের নিয়ে সভা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহনের গতি বাড়ানো ও শৃঙ্খলা ফেরাতে রিকশা না চালানোর আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার ডিএনসিসি নগর ভবনে এই সভা হয়।

মেয়র জানান, ঢাকা শহরের গাড়ির গতি অনেক কম। এর অন্যতম কারণ রিকশা। তাই প্রাথমিকভাবে ঢাকার তিন সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামীকাল (আজ রবিবার) থেকে কুড়িল-মালিবাগ-খিলগাঁও-সায়েদাবাদ সড়কে রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া গাবতলী-আজিমপুর এবং সায়েন্স ল্যাব-শাহবাগ সড়কেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে রিকশা। যাত্রীদের গণপরিবহনের অভাব মেটাতে এসব সড়কে চালু করা হবে বিআরটিসি বাস। এসব সড়কে স্কুল ভ্যানও চলতে দেওয়া হবে না।

রিকশা বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ ও কাউন্সিলররা। এ ছাড়া পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রতিনিধিরাও একমত পোষণ করেন। তাঁরা জানান, বর্তমান বাস্তবতায় ঢাকা শহরের গণপরিবহনে শৃঙ্খলা এবং যানজট নিরসনে শ্রমভিত্তিক পরিবহনের পরিবর্তে যান্ত্রিকতার দিকে যাওয়ার বিকল্প নেই। তাই ঢাকার প্রধানতম সড়কগুলোতে রিকশা বন্ধ করা জরুরি। তবে তিনটি সড়ক ছাড়া অন্যগুলোতে রিকশা আপাতত চলতে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ছোট সড়কে রিকশা চলতে পারবে। কিন্তু ঘোষিত তিন সড়কে কোনোভাবেই রিকশা চলতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, ‘কুড়িল থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রিকশা বন্ধে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। আশা করি ৮ জুলাই থেকে কোনো রিকশা ওই সড়কে দেখা যাবে না। এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য আমি রিকশা শ্রমিক ও মালিকদের আহ্বান জানাই।’

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যানজট নিরসনে আমরা মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে যেতে চাই। এর বিকল্প আমাদের হাতে নেই। রিকশা না থাকলেও আমরা গণপরিবহনের ব্যবস্থা করব।’

রিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকদের ভুল বুঝিয়ে বিপথগামী না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে রিকশা মালিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গুলশান জোনের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ।

এদিকে গতকালের সভায় রিকশা বন্ধের বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও পুলিশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও সভা শেষে সিদ্ধান্ত মানতে অপারগতা জানায় রিকশা মালিক সমিতি। ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমেন আলী বলেন, ‘রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত থাকায় লাইসেন্স নবায়ন কেন করা হলো? অবৈধ সব রিকশা বন্ধ করা হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বৈধ রিকশা চলতে দিতে হবে সব সড়কে। তা দেওয়া না হলে আইনি পথে হাঁটব আমরা।’ তিন সড়কে রিকশা বন্ধের প্রতিবাদে আজ রবিবার কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

মন্তব্য