kalerkantho

রংপুরে মন্থনা পুকুর ভরাট

ফায়ার সার্ভিস ও রক্ষা কমিটি মুখোমুখি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফায়ার সার্ভিস ও রক্ষা কমিটি মুখোমুখি

রংপুর নগরের ঐতিহ্যবাহী মন্থনা পুকুরটির মালিক জেলা প্রশাসন। আর সরকারি বরাদ্দ ছাড়া ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এটি ভোগদখল করছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এখানেই থেমে না থেকে তারা এখন পুকুরটির পশ্চিম পাশ ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশসহ জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছে।

এ ছাড়া পুকুরটির দক্ষিণ পাশে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে ওই জমি দখলে নিয়ে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

মন্থনা পুকুর রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে গত শুক্রবার সকালে রংপুর সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এবং ঐতিহ্যবাহী মন্থনা পুকুর রক্ষা সংগ্রাম কমিটিকে নিয়ে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ এনামুল কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরিফ মোহাম্মদ ফয়েজুল আলম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক সিদ্দিক মোহাম্মদ জুলফিকার রহমান, মেজর এস এম মোজাহিদ মুনির, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সদরুল আলম দুলু, অ্যাডভোকেট দীপক কুমার সাহা, অধ্যক্ষ খন্দকার ফকরুল আনাম বেঞ্জু, রাজনীতিবিদ তৌহিদুর রহমান টুটুল, পলাশ কান্তি নাগ, দেবদাস ঘোষ দেবু প্রমুখ।

সভায় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য মন্থনা পুকুর অক্ষত রেখে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানায়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, মার্কেট নির্মিত হলে পুকুর সংকুচিত হয়ে যাবে। তাই ঐতিহ্যবাহী পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা যাবে না। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণে হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয় তুলে ধরেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। পরে আন্দোলনকারী নেতারা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পুকুরটি পরিদর্শনে গিয়েও উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় মনোভাব ব্যক্ত করে।

আন্দোলনকারীরা বলছে, ফায়ার সার্ভিস এ কার্যক্রম বন্ধ না করলে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে মন্থনা জমিদারের কাচারিবাড়িতে স্থাপন করা হয় রংপুর ফায়ার সার্ভিস অফিস। মূল অফিসটি এক একর ৯৮ শতক জমির ওপর। অফিসের পশ্চিম দিকে রয়েছে মন্থনা পুকুর, যার আয়তন এক একর চার শতক। পুকুরের দক্ষিণ দিকে ৯ শতক জমির মধ্যে দুই শতকের জন্য ফায়ার সার্ভিস আবেদন করেছে। বাকি সাত শতক জমি জেলা প্রশাসন অন্য ব্যক্তিকে লিজ দিয়েছে।

এদিকে ৯ শতক জমির ওপর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ করেছিল এবং সেখানে তারা বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নানা আয়োজন করত। গত জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়াল তুলে দিয়েছে। ওই সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়।

এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ওই পুকুরের একাংশে মার্কেট নির্মাণ করছে অবৈধভাবে। জেলা প্রশাসনের ওই সম্পত্তিতে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ঘর ও নৌকা প্রতীক ছিল। এটিও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ রাতের আঁধারে ভেঙে দিয়েছে। এ কারণে আমরা এবার ওই স্থানে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে পারিনি। এ ছাড়া ওখানে একটি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অবৈধ দখল নেওয়ায় আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি।’

মন্তব্য