kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

আজ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস

মাদকাসক্তদের ৪২ শতাংশই ইয়াবাসেবী

এস এম আজাদ   

২৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদকাসক্তদের ৪২ শতাংশই ইয়াবাসেবী

দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে মাদকাসক্ত বলে যারা শনাক্ত হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই ইয়াবায় আসক্ত। গত বছর যারা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছে তাদের ৪২.৩ শতাংশই ছিল ইয়াবায় আসক্ত। প্রতিবছর অন্য মাদকে আসক্তের হার কমলেও বাড়ছে ইয়াবা ও হেরোইনসেবীর সংখ্যা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর তেওগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক বছরে ভর্তি হওয়া মাদকাসক্তদের ওপর চালানো জরিপ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

আজ বুধবার দেশে পালিত হচ্ছে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’। এই দিবসেই ডিএনসি ২০১৮ সালের ‘অ্যানুয়াল ড্রাগ রিপোর্ট’ বা বার্ষিক মাদকদ্রব্য প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছরের ২৬ জুন সারা বিশ্বে মাদকবিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সুস্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদকমুক্তির অঙ্গীকার’।

ডিএনসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করতে মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তি প্রতিরোধে ডোপ টেস্টসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দীন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান বেড়েছে। আগে আমরা যেখানে নয়-দশ হাজার মামলা করতাম, সেখানে গত বছর ডিএনসি করেছে ১৫ হাজার মামলা। সব সংস্থা মিলে ২০১৮ সালে এক লাখ ১৯ হাজার মাদক মামলায় এক লাখ ৬৮ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন আইনে ইয়বাসহ সব মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডোপ টেস্টেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্ত কেউ আর চাকরি পাবে না।’

ডিএনসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিয়েছে এর ৪২.৩ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত ছিল। ২০১৭ সালে এ হার ছিল ৩৫.৫৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে মোট মাদকাসক্তের ৩১.৬১ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত ছিল। ২০১২ সালে মাদকাসক্ত হয়ে যারা চিকিৎসা নিয়েছে তাদের ৫.৭৭ শতাংশ ছিল ইয়াবায় আসক্ত। ২০১৩ সালে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০.৩৩ শতাংশ; ২০১৪ সালে ১৭.৯৫ শতাংশ; ২০১৫ সালে ২০.৬৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরে হেরোইনে আসক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর মোট মাদকাসক্তের মধ্যে ২৯.৮ শতাংশ ছিল হেরোইনে আসক্ত। এর আগে ২০১৭ সালে ছিল ৩৩.৮৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৩৬.২৬, ২০১৫ সালে ২০.১৮ এবং ২০১৪ সালে ছিল ২৪.২ শতাংশ।

প্রতিবেদন মতে, প্রতিবছর কমছে ফেনসিডিল আসক্তের সংখ্যা। গত বছর তা ছিল মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৭ সালে ছিল ২ শতাংশ। এর আগে ২০১৬ সালে ১.৯৪, ২০১৫ সালে ২.৯৮, ২০১৪ সালে ৩.১০ এবং ২০১৩ সালে ছিল ৪.২৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার বেড়েই চলেছে। গত বছর দেশে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮টি। ২০১৭ সালে ছিল চার কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩টি। ২০১৬ সালে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৭৮টি, ২০১৫ সালে দুই কোটি ১৭ হাজার, ২০১৪ সালে ৬৫ লাখ ১৩ হাজার, ২০১৩ সালে ২৮ লাখ ২১ হাজার ৯৬, ২০১২ সালে ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৫ এবং ২০১১ সালে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৩০১টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেনসিডিল উদ্ধারের পরিমাণ কিছুটা কমে আবার বেড়েছে। ২০১১ সালে ৯ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ বোতল, ২০১২ সালে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ বোতল, ২০১৩ সালে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭৮১ বোতল, ২০১৪ সালে সাত লাখ ৪১ হাজার ১৩৭ বোতল, ২০১৫ সালে আট লাখ ৭০ হাজার ২১০ বোতল, ২০১৬ সালে ৫৬ লাখ ৬৫ হাজার বোতল, ২০১৭ সালে সাত লাখ ২০ হাজার ৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিভিন্ন সংস্থা। গত বছর ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে সাত লাখ ১৫ হাজার ৭২৯ বোতল।

 

মন্তব্য