kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

নবীন কর্মকর্তাদের শেখ হাসিনা

মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের প্রতিটি অর্থ জনগণের

সব শ্রেণির মানুষকে আপনি সম্বোধন পারিবারিক শিক্ষা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের প্রতিটি অর্থ জনগণের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১১০, ১১১ এবং ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে সনদপ্রাপ্তদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি অর্থ জনগণের অর্থ, সেটা মনে রাখতে হবে। আজকে আমরা বেতন-ভাতা যা কিছুই পাচ্ছি, তা আমাদের দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি জনতার ঘামে উপার্জিত অর্থ। কাজেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, তাদের উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি যেকোনো কাজকে ছোট করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষিত হলে ধান কাটা যাবে না, এ মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। শেখ হাসিনা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রিকশাচালককে আপনি সম্বোধন, ড্রাইভারকে সাহেব সম্বোধন আমার পারিবারিক শিক্ষা।’

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ১১০, ১১১ ও ১১২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচ এম আশিকুর রহমান, জনপ্রশাসনসচিব ফয়েজ আহমেদ বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠানের রেক্টর কাজী রওশন আরা আখতার স্বাগত বক্তব্য দেন।

১১০, ১১১ ও ১১২তম কোর্সের রেক্টর পদক জয়ী তিন শিক্ষার্থী মাহবুব উল্লাহ মজুমদার, রঞ্জন চন্দ্র দে ও মাবরুল আহমেদ অনিক অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কোর্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে পৃথক

ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

শেখ হাসিনা নবীন সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাজটাকে শুধু চাকরি হিসেবে নিলে হবে না। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা চাইতেন বাঙালিরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। তাই পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে (বাঙালি) একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং আমরা তা করতে পারব। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে, এই আত্মবিশ্বাসটা থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারীদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের ৬১ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার তাঁর সরকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে। ১৯ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জায়গায় দুই লাখ দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি এর প্রতিটি অর্থ জনগণের অর্থ সেটা মনে রাখতে হবে বলে আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪১ সালের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময় আজকের প্রজন্মই সে সময়ে অনেক উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত হবে। কাজেই এখন থেকেই সে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৃষ্টিই হয়েছিল এ দেশকে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার মাধ্যমে শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। তাই এই দিনেই পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে দলটির জন্ম।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা হয়তো দেখে যেতে পারব না। কিন্তু আজকের যে প্রশিক্ষণার্থী তারাই আমার ২০৪১ সালে সোনার বাংলা গড়ার কারিগর। সে জন্যই আমাদের আজকের প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার বিজয়ের ইতিহাস জানতে না পারি এবং পরাজিতদের পদলেহন করতে থাকি থাহলে নিজের পায়ে দাঁড়াব কিভাবে? সে জন্য ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতে পারেনি।’

 

মন্তব্য