kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সংসদে সাধারণ আলোচনা

বাজেট বাস্তবসম্মত : আ. লীগ

করের বোঝা চাপানো হয়েছে : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজেট বাস্তবসম্মত : আ. লীগ

প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী নয় বরং বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তাই বিদ্যুত্গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, দেশের অর্থনীতি ও বাজেটের আকার। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরো জোরদার করতে হবে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাঁরা কর দিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের ওপর আরো করের বোঝা চাপানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের অধ্যাপক আলী আশরাফ, আবদুল মান্নান, পংকজ দেবনাথ, মো. সাইফুজ্জামান (শিখর), খালেদা খানম, বেগম কানিজ ফাতেমা আহমেদ, আরমা দত্ত, সৈয়দা রুবিনা আক্তার, শেখ এ্যানী রহমান ও অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুত্ফুন নেসা খান এবং বিএনপির মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া। 

অধ্যাপক আলী আশরাফ বাজেটকে বাস্তবসম্মত দাবি করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে জনসংখ্যা ১৭ কোটি পেরিয়ে গেছে, জমি অর্ধেক কমে গেছে তা সত্ত্বেও দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি আরো বলেন, এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে যত ধরনের জোরদার প্রক্রিয়া রয়েছে তা প্রয়োগ করতে হবে। খেলাপি টাকা বিদেশে পাচার হলে তার বিরুদ্ধেও শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আবদুল মান্নান বাজেটকে জনকল্যাণমুখী উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ নেতৃত্ব ও ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন, যাঁরা এ দাবি করেন তাঁরা কেউ প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করব। তিনি বলেন, অনেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। কিন্তু বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে দলটি চলবে না। নেতৃত্ব বদলান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কাউকে নেতৃত্বে আনুন, তাহলে যদি রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে স্বামী যখন যুদ্ধে রয়েছেন, তাঁর স্ত্রী তখন কোথায় ছিলেন? ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে বহাল তবিয়তে থাকলেন। যাঁরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাঁদের বীরাঙ্গনা বলা হয়, সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে কী বলা হবে তা আগে ঠিক করেন।

এসব বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিশাল বাজেট দেওয়া হলেও এত ঘাটতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন খুব কঠিন হবে। করের বোঝা লাঘবে নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘সংসদে মাত্র আমরা ছয়জন, কিন্তু কথা বলতে গেলেই বাধা দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমান এ দেশের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। জিয়াকে খুনি ও তারেককে দুর্নীতিবাজ বললে আমাদেরও পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর এবং সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুত্ফুন নেসা খান বলেন, মানসম্মত শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অনেক পেছনে। দেশে বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণসমাজ মাদকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তিনি জাতীয় সংসদের ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

সাইফুজ্জামান (শিখর) বলেন, বাংলাদেশ মানুষকে উন্নত জীবন দেওয়াই হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ধ্যান-জ্ঞান। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ১০ বছর ধরে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাই বিদ্যুত্গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, দেশের অর্থনীতি ও বাজেটের আকার। তবে যাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে তাদের কাছে এই বাজেট ভালো লাগার কথা নয়।

ডা. হাবিবে মিল্লাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আগে এমপিদের পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপির পাঁচ-ছয়জন সংসদ সদস্য সংসদে এসে লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। মাত্র কয়েক দিনেই তাঁদের অসংসদীয় ভাষা যেভাবে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে, অতীতে কখনো হয়নি। এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী চোরের কোনো মুক্তি হতে পারে না। বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার মানুষের দীর্ঘ নিঃশ্বাসে বিএনপি এখন মুসলীম লীগ হওয়ার পথে।

সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ বলেন, দুর্নীতির বরপুত্র  তারেক রহমানদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। নির্বাচন বিতর্কিত করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আসল বাস্তবতা হচ্ছে ব্যাপক পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী যুদ্ধে অংশ না নিয়ে ষড়যন্ত্র ও নির্বাচন বাণিজ্য করেছে।

মন্তব্য