kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

৫০টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

সড়ক শৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫০টি সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রণীত ১১১টি সুপারিশের ৫০টিই আগামী ডিসেম্বর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন করতে হবে বলে সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বছরে সাধারণত একবার হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পরিষদের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে।

এ অবস্থায় ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে গতকাল রবিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার পরিচালক (অপারেশন) সীতাংশু শেখর বিশ্বাস। বৈঠকের পর তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ১১১টি সুপারিশ প্রণয়ন করার জন্য উপকমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে। সুপারিশগুলোর মধ্যে কতগুলো কোন সময় বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে উপকমিটি। কিন্তু আগামী জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ জন্য অনুমোদন নিতে হবে।

জানা গেছে, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের আগামী বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে হলে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আশু করণীয় ৫০টি সুপারিশ বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে।

সুপারিশমালা থেকে জানা গেছে, ৫০টি আশু করণীয় সুপারিশের মধ্যে আছে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা ও শিক্ষাসংক্রান্ত ছয়টি সুপারিশ। এ ছাড়া আছে প্রকৌশলগত (সড়ক) আটটি, যানবাহন প্রকৌশলসংক্রান্ত ৯টি, আইন প্রয়োগ ও বিধিবিষয়ক ২৪টি এবং বিশেষ সুপারিশ তিনটি। সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে কমিউনিটি পুলিশের বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারপার, গাড়িতে ওঠানামা তদারকি করা।

সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশু করণীয় ৫০টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু ইচ্ছা ও উদ্যোগের দরকার। এ জন্য জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের আগামী বৈঠকের অপেক্ষা করতে হলে সড়কে শৃঙ্খলা আনা দীর্ঘসূত্রতায় বন্দি হয়ে পড়বে।’

গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন চারটি সংস্থা বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন ও ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা ১১১টি সুপারিশের মধ্যে কোনগুলো নিজ সংস্থাকে বাস্তবায়ন করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া এর বাইরে স্থানীয় সরকার বিভাগ, গণপূর্ত, সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কোন সংস্থার সঙ্গে কোন সুপারিশ বাস্তবায়নে সমন্বয় করতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে টানা আট দিন আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। এর ছয় মাসের ব্যবধানে গত ফেব্রুয়ারিতে আবারও একই দাবিতে ঢাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছিল।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা