kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

হুমকি অনুভব করায় ফের নাগরিক তথ্য সংগ্রহে ডিএমপি

বসিলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের চালানো অভিযানের পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ভাড়াটিয়া বা মালিক থানায় তথ্য দেননি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কাজে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসায় আবারও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের হুমকি অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ফলে নতুন করে আবার নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজটি শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, রাজধানীতে গত তিন বছরে পুলিশ প্রায় আড়াই লাখ বাড়িওয়ালার তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যভাণ্ডারে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আর প্রায় ১৮ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমপ্রতি লক্ষ করেছি, ভাড়াটিয়া, বাড়িওয়ালা ও পুলিশ তথ্য দেওয়া বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মনোযোগ হারিয়েছে। বসিলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের চালানো অভিযানের পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ভাড়াটিয়া বা মালিক থানায় তথ্য দেননি। এ রকম আরো অনেক থাকতে পারে। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।’

রাজধানীকে অপরাধমুক্ত রাখতে ডিএমপি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে। এবার পালন করা হচ্ছে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ-২০১৯’। গতকাল ১৫ জুন শুরু হয়ে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এ সপ্তাহ চলবে। এ সপ্তাহের উদ্বোধন করে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।   

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার জানান, ২০১৬ সাল থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৩ জুন পর্যন্ত সিআইএমএস সফটওয়্যারে বাড়িওয়ালা দুই লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটিয়া ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪ জন, মেস সদস্য এক লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, অন্যান্য এক হাজার ১০০ জনের তথ্য রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন, ড্রাইভার/গৃহকর্মী আট লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন। সব মিলিয়ে ৬২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৭ জনের তথ্য সংরক্ষিত আছে।

তিনি বলেন, ‘আপনার তথ্য থানায় জমা দিন, পুলিশকে সহায়তা করুন, নিজে নিরাপদ থাকুন অন্যকে নিরাপদে রাখুন। সন্ত্রাস, উগ্রবাদ এবং অপরাধের হুমকি থেকে এই মহানগরীর মানুষকে সুরক্ষিত রাখুন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিএমপির ৫০টি থানার ৩০২টি বিট থেকে একযোগে সংগৃহীত হবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ কার্যক্রম। নাগরিক তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে নাগরিকদের তথ্য ডাটা বেইস সংগ্রহ করা হয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার জন্য, কোনো অপরাধ প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটনের জন্য। এই সিস্টেমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক ইনডেক্স নম্বর দেওয়া আছে। সেই নম্বর দিয়ে সিস্টেমে সার্চ দিলে কাঙ্ক্ষিত নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। আমরা নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করছি। তিন বছরে কোনো নাগরিকের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে আমরা সচেষ্ট আছি।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বর্তমানে আমরা লক্ষ করছি, অনেক নাগরিক তথ্য দিতে গড়িমসি করছে। নাগরিক তথ্য সংগ্রহ শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আবারও নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ শুরু করছি। ১৫ থেকে ২১ জুন প্রতিটি থানার বিটে বিট অফিসার ওই এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার প্রতিটি বাড়ি যাচাই করে দেখবে নাগরিক তথ্য প্রদানে কেউ বাদ পড়েছে কি না। কেউ বাদ পড়লে তাকে তথ্য ফরম দিয়ে সেই ফরমে তথ্য পূরণ করে ফেরত নেবে। এরপর ২১ জুন থেকে পরবর্তী সাত দিন ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে গঠিত সার্ভেইল্যান্স টিম বিভিন্ন বাসায় যাচাই করে দেখবে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না।’

গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার পর থেকে ঢাকায় সঠিক তথ্য না দিয়ে কেউ বাসা ভাড়া নিতে পারে না দাবি করেন ডিএমপি কমিশনার।

মন্তব্য