kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

সীমান্তে হত্যা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’

বিএসএফপ্রধানের দাবি, যখন কোনো বিকল্প থাকে না, প্রাণ বাঁচাতে বিএসএফ প্রতিহত করে শুধু। সব কটি ঘটনাই ভারতীয় ভূমিতে ঘটেছে, আর তাতে বিএসএফ সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ বলে দাবি করেছেন ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্র। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’র সংখ্যা কিছু বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘যখন কোনো বিকল্প থাকে না, প্রাণ বাঁচাতে বিএসএফ প্রতিহত করে শুধু। সব কয়টি ঘটনাই ভারতীয় ভূমিতে ঘটেছে, আর তাতে বিএসএফ সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।’

অন্যদিকে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফ সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে তিন দিনের সীমান্ত সম্মেলন শেষে এ সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উভয় বাহিনীর প্রধান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

সীমান্তে গত পাঁচ মাসে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে না। জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে বিএসএফ। তবু মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটে থাকে, যা খুবই সামান্য।’

বিএসএফপ্রধান বলেন, পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুর্বৃত্তরা বিএসএফের ওপর পাথর ছোড়ে, লাঠিপেটা করে, কখনো কখনো দা দিয়ে হামলা চালায়। কোনো বিকল্প না থাকায় প্রাণে বাঁচতে খুব অল্প কিছু ঘটনায় বিএসএফ মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

রজনীকান্ত জানান, গত বছর ভারতীয় ভূমিতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, ছয়জন ভারতীয়। একজন জোয়ান মারা গেছেন, ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এ বছরও তিনজন নিহত হয়েছেন। তাঁরা প্রতিটি ঘটনায় নিয়মমাফিক থানায় মামলা করেছেন এবং তদন্ত করেছেন। ভারতীয় ভূমিতে দুর্বৃত্তদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁরা বিজিবি ও বিএসএফকে সীমান্তের যেসব জায়গা দুর্বল, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটবে না।

গত মে মাসে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে নিহতের ঘটনা কখনোই হত্যাকাণ্ড নয়, এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। যে কয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে।’

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফেলানী হত্যাকাণ্ড ও মেহেরপুরে আম পাড়তে গিয়ে এক বালকের বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। তবে বিএসএফপ্রধান এ দুটি ঘটনার বিচার কোন অবস্থায় আছে, তা জানাননি।

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। সীমান্তের যেসব এলাকায় গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান হয়ে থাকে, সেসব স্থানে সমন্বিত যৌথ টহল পরিচালনাসহ যৌথ কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে নিহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভারতীয় সীমান্ত হয়েও বাংলদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে—সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে বিএসএফপ্রধান বলেন, ‘ইয়াবার জোগানদাতা তৃতীয় কোনো দেশ। ইয়াবাসহ যেকোনো মাদক পাচারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।’ সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এবারের আলোচ্য বিষয়ে ছিল না।

গত ১২ জুন থেকে বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৮তম সীমান্ত সম্মলেন শুরু হয়। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। আর বিএসএফ মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্রের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

মন্তব্য