kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

তদন্তে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে

নিখিল ভদ্র   

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদন্তে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রফিট বোনাস আটকে রেখে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের প্রমাণ পেয়েছে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তে কম্পানি পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রমাণও মিলেছে। যে কারণে দেশের একমাত্র এই কয়লাখনির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমানের নির্দেশে প্রফিট বোনাস আটকে রেখে কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার কাছ থেকে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনা গণমাধ্যমে ফাঁস হলে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৯ জানুয়ারি পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) ডি এম জোবায়েদ হোসেনকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। এরপর গত ৩ মার্চ সংস্থার উপমহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) শামীম হাসানকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কম্পানির ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ৬ মে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে।

তদন্ত প্রতিবেদনটি সংসদীয় কমিটিতে জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সদস্য শামসুর রহমান শরীফ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আগেও কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কয়লাখনির উৎপাদন পরিকল্পনা ও সুষ্ঠুভাবে কম্পানি পরিচালনা কাজে মনোনিবেশ না করে কোনো কারণ ছাড়াই বদলি, শোকজ, পরামর্শপত্র, সতর্কতাপত্র ও এসিআর খারাপ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অহেতুক হয়রানিও করা হয়েছে। এতে কম্পানিতে একটি বিরূপ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কম্পানির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া কয়লাখনির ভবিষ্যৎ নিয়ে কারিগরি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফজলুর রহমান গত বছর আগস্টে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব নিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রফিট বোনাস আটকে রেখে ওপর মহলকে দেওয়ার নাম করে কম্পানির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে টাকার অঙ্ক কমিয়ে মাথাপিছু ৬০ হাজার টাকা ধার্য করেন। এতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের কাছ ৪০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। এ ছাড়া চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি লঙ্ঘন করে একের পর এক অবৈধ সুবিধা দেওয়াসহ কম্পানিতে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনে ওই সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটির মতামতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সমাপ্তির পর খনিতে কয়লা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি কারিগরি কাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে খনির উৎপাদন পরিকল্পনা ও সুষ্ঠুভাবে কম্পানি পরিচালনার পরিবর্তে সাধারণ কারণে বদলি, কারণ দর্শানো, পরামর্শপত্র প্রদান, কম্পানির পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের সমালোচনার মাধ্যমে গ্রুপিং সৃষ্টি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে কম্পানির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা