kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

শ্রীবরদীতে সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ দলিল লেখা বন্ধ

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শেরপুরের শ্রীবরদী সাবরেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার থেকে দলিল লেখা বন্ধ রেখেছেন দলিল লেখকরা। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জমি দাতা ও গ্রহীতারা। 

দলিল লেখকরা জানান, আগে প্রতি দলিলে আব্দুর রহমানকে ঘুষ দিতে হতো ১৫০০ টাকা। এ ছাড়া পর্চা, আইডি কার্ড, আপস ঘরোয়া বণ্টন, হাল বজারত খতিয়ান, খারিজ করা জমির মূল দলিল ও একের অধিক মৌজার দলিল সম্পাদনে গুনতে হতো বাড়তি টাকা। ঈদের পর মঙ্গলবার নিজের কার্যালয়ে দলিল লেখকদের ডেকে নেন আব্দুর রহমান। তিনি প্রতি দলিলে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দলিল লেখকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দলিল লেখা বন্ধ রেখেছেন দলিল লেখকরা। গতকালও তা অব্যাহত ছিল।

দলিল লেখক সমিতির সভাপতি (দুজন সমান ভোট পাওয়া) আনিসুর রহমান ও দুলাল মিয়া বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রার দলিলপ্রতি অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার প্রতিবাদে দলিল লেখা বন্ধ রেখেছি। এতে দাতা-গ্রহীতা বিড়ম্বনায় পড়ছেন।’

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল করতে আসা ওরিয়ন গ্রুপের প্রডাকশন ম্যানেজার মাহবুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছি তিনটা দলিল সম্পাদন করার জন্য। কিন্তু সম্ভব হলো না। উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারের বাসিন্দা জয়নাল আবদিন, কাকিলাকুড়া খামারপাড়া গ্রামের এস এম ওয়াহেদ ও হাতিবর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ রাবেয়া বেগম জানান, দুই দিন থেকে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদন করার জন্য তাঁরা আসছেন। কিন্তু দলিল লেখক ও সাবরেজিস্ট্রারের মধ্যে চলা বিরোধের কারণে দলিল সম্পাদন হয়নি। এতে তাঁরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দাতা-গ্রহীতাদের ফটোকপি নয়, আসল জাতীয় পরিচয়পত্র ও বৈধ কাগজপত্র চাইলে দলিল লেখকরা দলিল জমা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এখানে টাকা-পয়সার কোনো বিষয় নেই। আমি বৈধ কাগজপত্র পেলে একটি টাকাও বেশি দিতে হবে না।’

আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ তুলে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধরের সঙ্গে দেখা করেছেন দলিল লেখক সমিতির নেতারা।

মন্তব্য