kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

সড়ক, রেল ও নৌপথ

১০ দিনে ২১২ দুর্ঘটনা, ঝরল ২৪৭ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার ঈদুল ফিতরের আগে-পরে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২১২ দুর্ঘটনায় ২৪৭ জনের প্রাণ ঝরেছে আর আহত হয়েছে ৬৬৪ জন। এর মধ্যে মহাসড়কেই ১৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত এবং আহত হয় ৬৫২ জন, যাদের মধ্যে ৩৭৫ জন পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়। গতকাল বুধবার যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ তাদের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম। সংগঠনের দুর্ঘটনা গবেষণা সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে সরকারের সদিচ্ছা ও রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদ যাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কমেছে।

ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে ১৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রো, ৩০টি নসিমন-করিমন, ভটভটি-ইজি বাইক, অটোরিকশা, ৬৪টি মোটরসাইকেল, ২৬টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছিল, যাতে ২২১ জন নিহত, ৬৫২ জন আহত ও ৩৭৫ জনকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫১টি গাড়িচাপা, ৮১টি সংঘর্ষ, ১৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা আছে। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে ৩৪টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। একই সময়ে নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন এবং পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুর্ঘটনা গবেষণা ও মনিটরিং সেল দেশের বহুল প্রচারিত বিশ্বাসযোগ্য ১৮টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য মনিটর করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী হয়রানি ও নিগ্রহের কিছু নমুনা তুলে ধরা হয়। পরিষদ জানায়, চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালকের হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেওয়া, ট্রাফিক আইন না মানা ইত্যাদি কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সড়কে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসমাইল গাজী দেলোয়ার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল যুবায়ের, অর্থ সম্পাদক সায়মুন নাহার জিদনী প্রমুখ।

মন্তব্য