kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

পাকিস্তানের বোধোদয়!

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকিস্তানের বোধোদয়!

অবশেষে ‘বোধোদয়’ হলো পাকিস্তানের। দীর্ঘ চার মাস ঝুলিয়ে রাখার পর হঠাৎ গতকাল সোমবার বিকেলে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (প্রেস) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে গতকালই ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন বাংলাদেশে থাকা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ও মেয়েকে ভিসা দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, করাচিতে বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার নূর-এ-হেলাল সাইফুর রহমানের কূটনৈতিক পরিচয়পত্র এক বছর ধরে নবায়ন করছিল না পাকিস্তান। গতকাল বিকেলে সেটিও নবায়ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানিদের বাংলাদেশের ভিসা জটিলতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ঈদের পর থেকেই ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাকিস্তানিরা যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সাপেক্ষে ভিসা পাওয়া শুরু করবে।

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কনস্যুলার শাখায় কাউন্সেলর (কনস্যুলার) পদটি শূন্য আছে। ওই পদে বাংলাদেশ যাঁকে নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান তাঁর ভিসা আটকে রেখেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনের কাউন্সেলর (প্রেস) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভিসা বিভাগ দেখভাল করছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে তাঁর ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে আবেদন করা সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার তা নবায়ন না করায় কার্যত ভিসা বিভাগ কর্মকর্তাশূন্য হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ১৩ মে থেকে ইসলামাবাদে পাকিস্তানিদের বাংলাদেশের ভিসা দেওয়াই বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো দেশের ভিসা বন্ধের নির্দেশনা দেয়নি। কিন্তু কনস্যুলার কর্মকর্তা না থাকলে ভিসা দেবে কে?’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি কূটনীতিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসার বিষয়টি সুরাহা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তাদেরও এ ব্যাপারে ডাকা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ ওআইসি নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। দৃশ্যত ওই সম্মেলনের পরই পাকিস্তান বাংলাদেশি কূটনীতিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভিসা মঞ্জুর ও নবায়ন করে।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান মনোনীত হাইকমিশনার সাকলায়েন সাইয়েদার ‘অ্যাগ্রিমো’ (হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ বিষয়ে স্বাগতিক দেশের সঙ্গে চুক্তি) গ্রহণ না করায় ওই দেশের আঁতে ঘা লেগেছে। রীতি অনুযায়ী, ‘অ্যাগ্রিমো’ গ্রহণ না করলে ওই দেশকে হাইকমিশনার হিসেবে নতুন প্রস্তাব করতে বলা হয় অনানুষ্ঠানিকভাবে। বাংলাদেশ তা করেছেও। কিন্তু সাকলায়েন সাইয়েদার ‘অ্যাগ্রিমো’ বাংলাদেশ গ্রহণ করবে বলে এখনো অপেক্ষায় আছে পাকিস্তান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তান এ দেশে হাইকমিশনার হিসেবে নতুন কারো নাম প্রস্তাব করলে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ তা বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো দোষ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে যারা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে সেটা আমাদের পছন্দ হয়নি।’

মন্তব্য