kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

যৌন নির্যাতনের শিকার চার কিশোর-কিশোরী

নির্যাতিতদের মধ্যে দুই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌন নির্যাতনের শিকার চার কিশোর-কিশোরী

পাবনা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে দুই স্কুলছাত্রী। এসব ঘটনায় দুই শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত শুক্রবার বাপ্পা সেন নামে একজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার আইডিয়াল গার্লস স্কুলের (খণ্ডকালীন) সহকারী শিক্ষক। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা শুক্রবার জগন্নাথপুর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে বাপ্পা সেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৪ মার্চ বাপ্পা মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে বিদ্যালয় থেকে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে বন্ধু আব্দুস সামাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সামাদ ও বাপ্পা মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বাপ্পা সেনের ভাই রিংকু সেন বলেন, ‘আমার ভাই ষড়ষন্ত্রের শিকার। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নব গোপাল দাস বলেন, গ্রেপ্তার শিক্ষককে গতকাল শনিবার সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। থানার ওসি ইখতেয়ার উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে।

পাবনা ও ভাঙ্গুড়া : ভাঙ্গুড়া ও ঈশ্বরদীতে দুই স্কুলছাত্রীকে (কিশোরী) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তাদের একজন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, উপজেলার রাঙ্গালিয়া গ্রামের চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মজনু সরকার (৪০) পাঁচ মাস আগে এক কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। ধর্ষণের ফলে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মা-বাবা ও মজনুকে জানায়। তখন মজনু গর্ভপাত করাতে ওই কিশোরীকে গোপনে কিছু ওষুধ খাওয়ান। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বুধবার তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মজনুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অন্যদিকে ঈশ্বরদী উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অরনকোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আতিকুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গতকাল পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক নার্গিস সুলতানা নির্যাতিতা দুই কিশোরীর বয়স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, উভয় মামলার বিষয়ে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিগগিরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ওসি মাসুদ রানা বলেন, গতকাল পাবনায় ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। অভিযুক্তকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিরোজপুর (আঞ্চলিক) : মঠবাড়িয়ায় গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগে শুক্রবার রাতে পুলিশের হাতে আটক শিক্ষকের নাম আলমগীর হোসেন (২৫)। উপজেলার আলগী পাতাকাটা গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি পাতাকাটা গ্রামে। তিনি এই গ্রামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের ধর্মীয় শিক্ষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদে জুমা ও তারাবির নামাজ পড়ান।

নির্যাতিত শিক্ষার্থীর নানা গত শুক্রবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য