kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

কুমিল্লায় বেপরোয়া ‘গ্যাং গ্রুপ’

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘গ্যাং গ্রুপ’-এর নামে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কুমিল্লা শহরের কিশোরদের একটা অংশ। এদের বেশির ভাগই স্কুলপড়ুয়া। শহরের নজরুল এভিনিউ রোডে এই কিশোররা গড়ে তুলেছে কয়েকটি ‘গ্যাং গ্রুপ’। ‘ঈগল’, ‘র‌্যাক্স’, ‘এক্স সিএমএইচএস’, ‘এলআরএন’, ‘মডার্ন স্কুল ওয়ান’ কিংবা ‘মডার্ন স্কুল টু’ নামের এসব গ্যাংয়ের গঠনমূলক কোনো কাজ শহরবাসীর চোখে পড়েনি।

বরং বখাটেপনা, একচেটিয়া হর্ন বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা কিংবা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার নজিরই প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে তারা। সংঘাতের সর্বশেষ শিকার হয় কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী আজনাইন আদিল (১৭)। গত সোমবার ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয় তার। আদিল কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। এর আগে গত ২১ এপ্রিল সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় মডার্ন হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুমতাহিন ইসলাম মিরণ।

এ দুটি ঘটনার পর অভিযানে নামে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয় এসব গ্যাংয়ের অন্তত ৩০ সদস্যকে। এদের বেশির ভাগই সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, যেসব কিশোর এসব গ্যাং গ্রুপের সদস্য, তাদের ব্যাপারে অভিভাবকরাও উদাসীন। মনোযোগ নেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ রোডের কর ভবন, মডার্ন হাই স্কুলের সামনে, আড়ংয়ের সামনে এবং লিপি ডিজিটালের সামনে এসব গ্যাংয়ের আড্ডা বসে। স্কুল শুরুর সময় থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তারা আড্ডা মারে। প্রতিটি গ্রুপে ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য রয়েছে। বেশির ভাগই স্কুলছাত্র। কোনো কোনো গ্যাংয়ের নেতা আবার স্কুল ছেড়ে যাওয়া বড় ভাই।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, ‘গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিন-চারটি মোটরসাইকেলে কিশোররা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। একপর্যায়ে কয়েকজনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়েই মূলত ঘটনার সূত্রপাত। এরপর ধাওয়াধাওয়ি হয় এবং একপর্যায়ে আদিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।’

মন্তব্য