kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন হাইকোর্টে

ওয়াসার পানি পরীক্ষায় লাগবে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় কত টাকা খরচ হবে, তা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পৌঁছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

প্রতিবেদনে দুই দফায় পানির এক হাজার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় খরচ ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে নিজস্ব ল্যাবে খরচ হবে ৫০ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় বুয়েটের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় খরচ হবে ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে হটলাইনের (১৬১৬২) মাধ্যমে ঢাকার আটটি জোন থেকে ২৯২টি অভিযোগ এসেছে। এসব স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রথমে ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। পরে আরো নিশ্চিত হতে তা বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে।

এর আগে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ ১৩ মে আদালতকে জানান, ঢাকার ১৬টি এলাকার পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। এলাকাগুলো হলো জুরাইন, দনিয়া, শ্যামপুর, উত্তরা সেক্টর-৪, মিরপুর, পল্লবী, লালবাগ, রাজার দেউড়ি, মালিবাগ, বনশ্রী, মাদারটেক, গোড়ান, রায়সাহেব বাজার, মোহাম্মদপুরের বসিলা, কাজিপাড়া ও সদরঘাট। 

গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং আইসিডিডিআরবির প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নামের তালিকা গত ১৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মাদ সাঈদ-উদ-রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নমুনা সংগ্রহ করে তার নির্দিষ্ট পরীক্ষার পর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে একটি তহবিলের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিসহ ঢাকা ওয়াসার সামগ্রিক প্রচেষ্টা দরকার। এসব কাজের জন্য তহবিল গঠন করে বিরতিহীনভাবে ওয়াসার তিনটি ল্যাবরেটরিতে একযোগে কাজ করলেও এ প্রতিবেদন তৈরি করতে কমপক্ষে চার মাস সময় প্রয়োজন।’ এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, কমিটি একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। তা আদালতে উপস্থাপনের জন্য সময় দরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত পানি পরীক্ষার জন্য কত টাকা প্রয়োজন তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান। এ কারণে মন্ত্রণালয় খরচের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

সংশোধনী

ওয়াসার পানি পরীক্ষা করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় হাইকোর্টের অসন্তোষ প্রকাশ করা নিয়ে গত ১৪ মে কালের কণ্ঠে প্রথম পৃষ্ঠায় ‘হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে ওয়াসা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অসাবধানতাবশত ওয়াসা শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত ‘ওয়াসা’র বদলে ‘মন্ত্রণালয়’ হবে। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত।

মন্তব্য