kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

আরোহীদের ১৩০ জনই বাংলাদেশি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরোহীদের ১৩০ জনই বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করা দুটি নৌকার ১৫০ জন আরোহীর মধ্যে ১৩০ জনই ছিল বাংলাদেশি। একটি নৌকা ইতালি উপকূলে পৌঁছলেও অন্যটি ভূমধ্যসাগরের তিউনিশিয়ার জলসীমার কাছে ডুবে যায়। শরীয়তপুরের নড়িয়ার উত্তম দাস নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৩৯ জন বাংলাদেশি।

তিউনিশিয়া থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নোয়াখালীর রোম্মান, রুবেল ও রিপন নামের তিন ভাই, শরীয়তপুর/মাদারীপুরের নুরী ও মিরাজ এবং সিলেটের বেশ কিছু ট্রাভেল এজেন্ট এই মানবপাচারচক্রে জড়িত।

মন্ত্রী জানান, পাচারকারীরা ওই বাংলাদেশিদের চার থেকে ছয় মাস আগে দুবাই-শারজাহ-ইস্তাম্বুল-আলেজান্দ্রিয়া-আম্মান হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। এর পরই ওই বাংলাদেশিদের লিবিয়ায় স্থানীয় দালালচক্র জিম্মি করে। তাদের ক্যাম্পে আটকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে বাংলাদেশে থাকা পরিবারগুলোর কাছ থেকে আবারও অর্থ আদায় করে। তারা যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে সে জন্য মাফিয়াচক্র প্রতিনিয়ত পাহারার ব্যবস্থা করেছিল। লিবিয়ার ত্রিপলিতে যুদ্ধ চলার কারণে মানব পাচারকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারাই গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাংলাদেশিদের পিটিয়ে নৌকায় তুলেছিল।

ড. মোমেন বলেন, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া এসব তথ্য পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় তিউনিশিয়ার জারজিসের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের মধ্যে রনি মিয়া ও রনি মোল্লা নামে দুজনের শরীর পুড়ে গেছে। তাঁরা বাঁচার জন্য গরম তেলের একটি ড্রাম ধরে সাগরে প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। আহত অন্য দুজনের শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বাকি ১০ জন তিউনিশিয়ায় রেড ক্রসের হেফাজতে আছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা দেশে ফিরতে চাইলে তাদের পরিচয় যাচাই সাপেক্ষে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাচারচক্রের হাতে এভাবে জনপ্রতি আট-দশ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করাটা দুঃখজনক। ওই টাকা দিয়ে দেশেই ভালো কিছু করা যায়। সিলেটের জেলা প্রশাসন এরই মধ্যে ভুয়া ২৩টি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস সিলগালা করে দিয়েছে। ওসব এজেন্সির লোকজন পালিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌকাডুবিতে নিখোঁজ/নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪০ জনে উন্নীত হলো। এর আগে ৩৭ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ/নিহত হওয়ার তথ্য ছিল। এদের মধ্যে বৃহত্তর সিলেটেরই রয়েছে ২২ জন।

মন্তব্য