kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

১০ পরিবারে উৎকণ্ঠা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ পরিবারে উৎকণ্ঠা

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ বাংলাদেশির পরিবার উৎকণ্ঠায় আছে। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জুয়ারা উপকূল থেকে একটি বড় নৌকা ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। গভীর রাতে ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার জলসীমায় ওই বড় নৌকা থেকে প্রায় ৭৫ জনকে ছোট একটি নৌকায় নামানো হয়। পরে ওই ছোট নৌকাটি ডুবে যায়।

রেড ক্রিসেন্টের তথ্যানুযায়ী, নৌকাটিতে মোট ৫১ জন বাংলাদেশি ছিলেন, যাঁদের ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সে হিসাবে বাকি ১০ বাংলাদেশির পরিণতি জানা সম্ভব হয়নি।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, নিখোঁজ বাংলাদেশিদের মধ্যে বিয়ানীবাজারের আব্দুল হালিম সুজন, রফিক আহমদ ও রিপন আহমদ নামের তিন যুবক আছেন।

সুজনের বাড়ি উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়উধা মাইজকাপন গ্রামে। তাঁর বড় ভাই আব্দুল আলিম জানান, সুজন দেশে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের অর্থকষ্ট দূর করতে ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুজন। এ জন্য তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার পারভেজ আহমদ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহিন আহমদ নামের দুই দালালকে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা দেন। গত বৃহস্পতিবার নৌকায় চড়ার আগে বাড়িতে যোগাযোগ করেছিলেন সুজন। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর থেকে দালালরা ফোন বন্ধ রেখেছে। এখন সুজনের পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় আছে।

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজের তালিকায় বিশ্বনাথের দিলাল মিয়া (৩৪) ও রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন (২৬) নামের দুই ব্যক্তি আছেন। এর মধ্যে দিলাল নৌকায় ওঠার ১০ মিনিট আগে মোবাইল ফোনে ভাই শানুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন খোকন তাঁর ভাই রাজু আহমেদকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন।

নিখোঁজ দিলাল উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের ইরশাদ আলীর ছেলে। আর খোকন রামপাশা ইউনিয়নের নওধার মাঝপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলীর ছেলে। তাঁরা দুজনই পাঁচ মাস আগে লিবিয়া গিয়েছিলেন। তাঁদের নিখোঁজের খবরে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চার যুবক আছেন। তাঁদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের পাটদল গ্রামের মৃত হাসেম মোল্যার ছেলে সুমন মোল্যা (২৬), দক্ষিণ চাকধ গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে উত্তম দাস (২৩), হারুন হাওলাদারের ছেলে জুম্মান হাওলাদার (১৯) ও চাকধ গ্রামের মোর্শেদ আলী মৃধার ছেলে পারভেজ মৃধা (২২)। ওই যুবকরা গত বছরের রমজান মাসে স্থানীয় দালাল কেদারপুর গ্রামের আক্কাছ মাদবরের সঙ্গে লিবিয়া যান।

নিখোঁজ সুমনের বড় বোন রাহিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এখনো সুমনের কোনো সন্ধান পাইনি। ডুবে যাওয়া ওই নৌকায় আমার ভাইকে তুলে দিয়েছিল দালাল। আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’

জুম্মনের ছোট ভাই অয়ন হাওলাদার বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশিরের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পাই। নৌকায় ওঠার আগে আমার ভাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার জুয়েল আহমেদের (২৩) খোঁজ পায়নি তাঁর পরিবার। এতে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েছে স্বজনরা।

জুয়েল উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছাতারখাই গ্রামের জামাল উদ্দিন বছরের ছেলে। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশে ২০১৮ সালের ৫ মার্চ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি দেন জুয়েল। এরপর কেটে যায় প্রায় দেড় বছর। এরপর ইতালিতে বসবাসরত বিশ্বনাথ উপজেলার পারভেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই দালাল আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে জুয়েলকে ইতালিতে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এরপর গত ডিসেম্বরে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বাবা রফিক উদ্দিনের (পারভেজের বাবা) ওই টাকা পরিশোধ করা হয়।

জুয়েলের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে জুয়েলকে ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে বিয়ানীবাজার উপজেলার দালাল বদরুল ইসলাম আট লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়। এরপর ছেলেকে লিবিয়া পাঠালেও সে ইতালি পাঠাতে পারেনি। এরপর দালাল পারভেজের সঙ্গে চুক্তি হয়। নৌকায় ওঠার আগে ছেলে ফোন দিয়েছিল। এরপর আর তার খোঁজ মিলছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা