kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

১২ দিন পর মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জিসানের গলিত লাশ

খুনি আটক, বাইক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ দিন পর মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জিসানের গলিত লাশ

নিখোঁজের ১২ দিন পর ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র জিসানের লাশ উদ্ধার হয়েছে গাজীপুর থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কামারজুরি এলাকার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাড়ির মালিক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. জাহাঙ্গীর আলম। জিসান গত ১২ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

সকাল ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জিসানের ঘাতকদের একজন হাসিবুল ইসলাম হাসিব নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে আটক এবং তাঁর হোটেল থেকে জিসানের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে হাসিবের স্ত্রীকেও। ঘাতকদের অন্যতম হাসিব গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাজপাড়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে। ড. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ভাড়া থেকে তিনি হোটেল ব্যবসা করতেন।

নিহত ইসমাইল হোসেন জিসান (২৫) গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার কাথোরা এলাকার সাব্বির হোসেন শহিদের ছেলে। ঢাকার মিরপুরের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিসান চার ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়।

নিহতের মামা জিয়াউর রহমান জানান, সপ্তাহের তিন দিন বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার ঢাকার শ্যামলীতে এক বন্ধুর বাসায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলোয় যোগ দিতেন জিসান। গত ৯ মে তিনি ক্লাস করতে বাইক নিয়ে ঢাকায় যান। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি পাঠাও সার্ভিসে বাইক চালাতেন। ১২ মে রাতে তাঁর বাসায় ফেরার কথা ছিল। রাত ১০টার পরও না ফেরায় মোবাইলে ফোন দেওয়া হয়; কিন্তু তাঁর সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে ওই দিন রাতে গাজীপুরের গাছা এবং ১৬ মে ঢাকার শেরেবাংলানগর থানায় জিসানের বাবা সাব্বির হোসেন সাধারণ ডায়েরি করেন। জিসানের বাবার কাথোরা এলাকায় ছোট একটি রেস্টুরেন্ট আছে।

শেরেবাংলানগর থানার এসআই সুজানুর রহমান জানান, জিডির সূত্র ধরে তদন্ত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গতকাল ভোরে গাছার মধ্য কামারজুরি এলাকার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হাসিবকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যে ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে জিসানের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হাসিবের হোটেল থেকে জিসানের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসেটও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব সহযোগীদের নিয়ে নিজ বাসায় জিসানকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন।

গাছা থানার এসআই ফোরকান আলী জানান, জিসান দরিদ্র পরিবারের সন্তান। লেখাপড়ার পাশাপাশি পাঠাও সার্ভিসে বাইক চালিয়ে পরিবারকে সাহায্য করতেন তিনি। মাত্র ছয় মাস আগে গাছায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস শুরু করে তাঁদের পরিবার।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এলাকার বাসিন্দা হিসেবে জিসান ও হাসিব পরস্পর পরিচিত ছিল। জিসান বাইকে ১২ মে বাড়ি ফিরছিলেন। খুন করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্য হাসিবের বন্ধু শামীম তাঁর পিছু নেয়। শামীম পেশাদার ছিনতাইকারী। সে কৌশলে জিসানের মোটরবাইকে চেপে বসে। ‘শিকার’ নিয়ে আসার খবরটি মোবাইলে হাসিবকে জানিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলে। পরে হাসিবের বাসায় নিয়ে যায় জিসানকে। ওই রাতেই আরো কয়েকজন মিলে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধে জিসানকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।

পুলিশ জানায়, খুনিদের পরিকল্পনা ছিল মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে সেই টাকায় ঈদে ফুর্তি করবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে হাসিব তথ্য দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মন্তব্য