kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

মাদরাসাছাত্রী রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

সোনাগাজী আ. লীগের বিরোধ প্রকাশ্যে

এস এম আজাদ, সোনাগাজী (ফেনী) থেকে   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনার সঙ্গে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ কয়েকজনের নাম জড়িয়ে পড়ায় বিব্রত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাফির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অবস্থানে স্থানীয় নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। এর সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ধূম্রজাল রয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছে, জেলা কমিটি রুহুল আমিনকে সভাপতি ঘোষণা করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। আবার আগের সভাপতি ফয়জুল কবিরকে অব্যাহতি না দেওয়ায় তিনি এখনো নিজেকে সভাপতি বলেই দাবি করেন। জেলার প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দে পকেট কমিটি নিয়ে ইচ্ছামতো দল চালাচ্ছেন রুহুল আমিন।

রাফিকে যৌন হয়রানি ঘটনার পর রুহুল আমিনসহ মাদরাসা পরিচালনা কমিটিতে যুক্ত একটি পক্ষ প্রকাশ্যে ও গোপনে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে রক্ষায় মাঠে নামে। অন্যপক্ষ সিরাজের বিচারের দাবিতে সক্রিয় হয়। সিনিয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। রাফি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির জন্য আওয়ামী লীগ সক্রিয় আছে।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বিকম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাফির মৃত্যুর ঘটনায় আমরা শোকাহত। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রুহুল আমিনের ব্যাপারেও অনেকে বলছে। প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন বর্তমানে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি। সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে রুহুল আমিনের ঘনিষ্ঠতার কথা সোনাগাজীর সবার মুখে মুখে। সিরাজই রুহুল আমিনকে কমিটিতে নেন। তবে রাফির ঘটনা আলোচিত হতে থাকলে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন রুহুল।

সিরাজ উদ দৌলার আরেক রক্ষাকবচ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাকসুদ আলম। গত ২৭ মার্চ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২৮ মার্চ তিনিই মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেন। পরে রাফি হত্যাচেষ্টার ৪ নম্বর আসামি করা হলে গা ঢাকা দেন মাকসুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মাদরাসা কমিটির অভিভাবক সদস্য জামশেদ আলমও সিরাজ উদ দৌলার ঘনিষ্ঠজন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদরাসা ছাত্রলীগের সভাপতি বলে পরিচয় দেওয়া শাহাদাত হোসেন শামীম মামলার ৩ নম্বর আসামি। যে ছিল সিরাজ উদ দৌলার ক্যাডার। এদিকে সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুল হালিম মামুন ছিলেন রাফির ওপর যৌন হয়রানির বিচার দাবি আন্দোলনে সক্রিয় নেতা। তিনি মাদরাসার আগের পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। মামুন ছাড়াও কয়েকজন নেতাকর্মী প্রকাশ্যে এবং গোপনে রাফিকে নিপীড়ন ও হত্যাচেষ্টার বিরোধিতা করেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জেলা সিন্ডিকেটে গঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের যারা মানে না, তারাও এ আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছে।

ফয়জুল কবির বলেন, কাগজে-কলমে আমিই সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি তো রিজাইন করিনি। আমাকে বাদ দিয়ে কোনো চিঠিও দেওয়া হয়নি। সাবেক এমপি হাজি রহিম উল্লাহকে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছিল। তাঁর এবং জেলা কমিটির লোকজনের দাপটের কারণে প্রথমে আমি সক্রিয় হতে পারিনি। পরে রুহুল আমিন কিভাবে সভাপতি হয়েছেন তা জানি না।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজীর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক করার পর পরিবর্তন জেলা কমিটি থেকে করা হয়েছে। দলে বিভাজন নেই।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি ছয়-সাত মাস আগে মাদরাসা কমিটির সহসভাপতি হয়েছি। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ঘটনা জানার পর আমিই তাঁকে পুলিশে দিয়েছি।’

রাফির ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ পরস্পরবিরোধী কর্মসূচি পালন করে। সে ক্ষেত্রে তিনি কী ভূমিকা রেখেছেন জানতে চাইলে, রুহুল আমিন বলেন, ‘২৮ মার্চ কাউন্সিলর মাকসুদ সিরাজ উদ দৌলার পক্ষে এবং কাউন্সিলর মামুন তাঁর বিপক্ষে মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁরা দুজনই দলের লোক। আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ কারণে গণ্ডগোল হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা