kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ছাত্রলীগে নেতা বহাল, কার্যক্রম বেহাল

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগে নেতা বহাল, কার্যক্রম বেহাল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ চলছে দুই নেতার কমিটিতে। কেন্দ্রের নির্দেশে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে এই দুই নেতা আছেন বহাল তবিয়তে। নেতা থাকলেও দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে চলমান কমিটি বহাল রেখে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম সচল করতে কেন্দ্রে তদবির চালাচ্ছেন কমিটির নেতারা। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার পদপ্রত্যাশীরা। কমিটিতে পদ পেতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল সম্মেলন করে ১৫ এপ্রিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কমিটিতে বাংলা বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শাহিনুর রহমান শাহিনকে সভাপতি

ও একই বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল রানা হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এক

বছর মেয়াদের জন্য গঠিত দুই নেতার সেই

কমিটি দিয়েই চলছে ছাত্রলীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর হয়নি।

পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ করেন দলের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। তাতে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অসহযোগিতা করা, নতুন শিক্ষকদের কাছে চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। এর ভিত্তিতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। অভিযোগের অধিকতর তদন্তে আল নাহিয়ান খান জয়, শাকিল ভূইয়া, জাহাঙ্গীর মঞ্জিল পিপাসকে সদস্য করে একটি কমিটিও করা হয়। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এর সদস্যরা এক দিনের জন্যও ক্যাম্পাসে আসেনি বলে জানিয়েছে নেতাকর্মীরা।

এক বছর মেয়াদি কমিটি তিন বছর পূর্ণ করবে আগামী ১৫ এপ্রিল। এই কমিটিকে ‘ব্যর্থতার বৃত্তে আবদ্ধ’ উল্লেখ করে কর্মীরা বলছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরাও। দলীয় টেন্টে কেউ বসে না। জাতীয় দিবসগুলোতেও আগের মতো সক্রিয় নেই তারা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন বলেন, ‘কর্মীদের তৎপর রাখতে হলে দলীয় কার্যক্রম আবশ্যক। অন্যথায় কর্মী ধরে রাখা মুশকিল। আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে তা একটু বেশি কঠিন। আমি মনে করি, ক্যাম্পাসে সংগঠনের রাজনীতি সক্রিয় করতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

এদিকে চলমান কমিটির কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ না তুলে নতুন কমিটি দেওয়া হতে পারে বলে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন রয়েছে। নতুন কমিটিতে পদ পেতে ইতিমধ্যে লবিংও শুরু করেছেন অনেকে। পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন—ইংরেজি বিভাগের রবিউল ইসলাম পলাশ, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, তন্ময় সাহা টনি ও রিজভী আহমেদ পাপন; অর্থনীতি বিভাগের মিজানুর রহমান লালন, ফাহিমুর রহমান সেতু ও নাসিম আহমেদ জয়; আইন বিভাগের শাকিল আহমেদ সুমন ও ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিশির ইসলাম বাবু।

অভিযোগ রয়েছে, কমিটিতে পদ পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করছেন পদপ্রত্যাশীরা। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এই প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। চলতি বছরই প্রকল্পের টেন্ডার হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রকৌশল অফিস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের পছন্দমতো কমিটি পেতে নেপথ্যে থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘কারো চাহিদা অনুযায়ী কমিটি গঠন হবে বলে বিশ্বাস করি না। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সুতরাং নতুন নেতৃত্বের কাছেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্টের কাজ ছাত্রলীগের কমিটিতে প্রভাব ফেলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কেউ করছে কি না আমার জানা নেই। আর করলেও সুফল পাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি অন্যতম ইউনিট। এ রকম একটি শাখায় দীর্ঘদিন কার্যক্রম না থাকা দলের জন্য ক্ষতিকর। কর্মীদের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

পদপ্রত্যাশী তন্ময় সাহা টনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম দরকার। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র স্থগিতাদেশ তুলে নিতে পারে আবার নতুন কমিটিও দিতে পারে। পদের প্রত্যাশা অনেকেরই থাকতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতারা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা