kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্মৃতিসৌধে জেগেছে সাধারণ মানুষও

তানজিদ বসুনিয়া, সাভার থেকে   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে মোখলেসুর রহমান সাগর। ঢাকার লালমাটিয়া থেকে আসা এই তরুণের হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে একাত্তরে চালানো গণহত্যার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

তেজগাঁও কলেজ থেকে সদ্যই মাস্টার্স পাস করা সাগর কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন জঘন্যতম নৃশংস গণহত্যার ঘটনা আর ঘটেনি। অথচ এত বছরেও আমরা এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইনি। পাশাপাশি দীর্ঘ ৯ মাস আমাদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে তার জন্যও পাকিস্তানকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। যত দিন তারা ক্ষমা না চাইবে, এই আন্দোলন চলবে।’

ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি করেন মো. শফিকুল ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খাতুন। বাড়ি কুড়িগ্রামে। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে স্মৃতিসৌধের ডান পাশে হাঁটতে দেখা গেল এই দম্পতিকে। কালের কণ্ঠকে তাঁরা বললেন, ‘আজ সরকারি ছুটির দিন, তাই এখানে ঘুরতে আসছি। তবে স্মৃতিসৌধে আসার বড় কারণ হলো আমরা দেশকে ভালোবাসি।’

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় ঘুরতে এসে স্বামী-সন্তানসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসা নাসরিন আক্তার রূপা বললেন, ‘এখানে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। সামনেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। তবে আমরা এখনো অনেক বিষয়ে পিছিয়ে আছি।’

গার্মেন্টকর্মী আরিফা বেগম বললেন, ‘দেশটা স্বাধীন হয়েছিল বলেই দেশের পোশাকশিল্প আজ এতটা পরিচিতি পেয়েছে। আমাদের মতো মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।’

মধুপুর বড়টেক বলিভদ্র এলাকা থেকে আসা আলী আজগর আকন্দ বলেন, ‘দীর্ঘ যুদ্ধ করে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা চাই সেটা অটুট থাকুক। পাশাপাশি জনগণ তাদের প্রকৃত অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাক।’

মুক্তিযোদ্ধা ম খন্দকার হামিদ রঞ্জু বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। তবে বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে চর্চা চলছে সে জন্য আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করিনি।’

মহান স্বাধীনতা দিবসে গতকাল মঙ্গলবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এভাবেই জেগে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষগুলো দিনভর ভিড় করেছে স্মৃতিসৌধে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা