kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার আদালতে শুনানি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের করা মামলার শুনানি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কানাডার অন্টারিওতে ফেডারেল আদালতে শুরু হয়েছে। কানাডা থেকে বহিষ্কার এড়াতে নূর চৌধুরীর ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ আবেদন ওই দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখার প্রেক্ষাপটে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ সরকার গত বছরের জুন মাসে ওই মামলাটি করে। বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টরিস এলএলপি’ ওই মামলায় কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের পাশাপাশি খুনি নূর চৌধুরীকেও পক্ষভুক্ত করেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর খুনিদের বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোয় কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখনো খুনি নূর চৌধুরী বিদেশে বাংলাদেশি কূটনীতিক হিসেবে এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিলে সস্ত্রীক তিনি কানাডা যান।

আওয়ামী লীগ সরকার ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরুর উদ্যোগ নিলে ১৯৯৯ সালে নূর চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রাশিদা খানম কানাডায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দিলে তাঁরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। ২০০৭ সালে কানাডার সর্বোচ্চ আদালতও তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, কানাডা সরকার সে সময়ই নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠনের পর নূর চৌধুরী বাংলাদেশে ফিরলে ফাঁসির আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁর বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ আবেদন করেন। কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তা গ্রহণ বা বাতিল কোনোটাই না করে ঝুলিয়ে রেখেছে। এ বিষয়েই বাংলাদেশ কানাডার আদালতের নির্দেশনা চাইছে।

উল্লেখ্য, আইনি প্রচেষ্টায় নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার চেষ্টার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় প্রতিটি বৈঠকে নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলেছেন। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পটভূমিতে গত ১৮ মার্চ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ফোন করলেও শেখ হাসিনা খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান।

কানাডার কূটনীতিকরা বরাবরই বলে এসেছেন, কানাডায় মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা নেই। মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা আছে—এমন কোনো ব্যক্তিকে তারা সাধারণত ফেরত পাঠান না। তবে বাংলাদেশ বলেছে, নূর চৌধুরী দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা