kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

নীলফামারী ও রাজবাড়ী

তিন ও চার বছরের দুই শিশু ধর্ষিত, পিটিয়ে দুই যুবককে পুলিশে সোপর্দ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীলফামারীতে তিন বছরের এবং রাজবাড়ীতে চার বছরের দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দুটি ঘটনায়ই অভিযুক্ত দুই যুবককে ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা।

নীলফামারী জেলা সদরে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম হজরত আলী (২০)। সে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। সে নির্যাতিত শিশুটির বাবার হোটেলের কর্মচারী। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম আনিস সেখ (২১)। সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের সাত্তার সেখের ছেলে।

নীলফামারী : গত রবিবার দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে তিন বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ‘দুপুরে আমার মেয়ে বাড়িতে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী হজরত আমার মেয়েকে ডেকে তার বাড়িতে নেয়। আধাঘণ্টা পর মেয়েকে কান্নারত অবস্থায় দিয়ে যায় হজরত। এ সময় মেয়ে পায়খানা করতে বসলে প্রস্রাবের নালি ও পায়খানার দ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। প্রতিবেশীরা জানায়, শিশুটির রক্তক্ষরণ দেখে হজরত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে রেখে। শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠায়। পরে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

গোড়গ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে বিষয়টি থানাকে জানাই। পুলিশ এসে হজরতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’ শিশুর বাবা বলেন, ‘প্রতিবেশী হজরত আমার হোটেলের কর্মচারী। সে সুবাদে আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া আছে তার। রবিবার দুপুরে মেয়েকে বেড়াতে নেওয়ার নাম করে তাদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি আমি।’

নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক শাহিন নওরোজ বলেন, ‘শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এরশাদুল আলম বলেন, ‘শিশু ধর্ষণের অভিযোগে হজরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অপরাধের দায় স্বীকার করেছে সে। গতকাল সোমবার সকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাজবাড়ী : অন্যদিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় চার বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে একই হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত যুবক আনিচ সেখ শিশুটির প্রতিবেশী।

ওই শিশুটির মা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তার মেয়ে খেলতে খেলতে আনিচের বাড়িতে যায়। ওই সময় তার বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। এ সুযোগে মেয়েটিকে প্রলোভন দেখিয়ে আনিচ তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। তিনি জানান, ওই দিন রাতে মেয়েটি তার প্রস্রাবের রাস্তায় ব্যথার কথা মাকে জানায়। একপর্যায়ে তিনি দেখেন, মেয়ের প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং তা তার প্যান্টেও লেগে গেছে। এর কারণ জানতে চাইলে মেয়ে তাঁকে বলে, আনিচ তাকে ব্যথা দিছে। পরদিন রবিবার সকালে মেয়েটির ব্যথা আরো বেড়ে যায় এবং তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে আনিচকে আটক করে এবং উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিজা জানান, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পর তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হতে বলা হয়েছে।

রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল সকালে মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বখাটে আনিচ সেখকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা