kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা

ঋণখেলাপিদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কম্পানির লোকসানির কারণে কিংবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে যেসব ভালো ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি তাঁদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ভালো ঋণগ্রহীতা অথচ ঋণখেলাপি হয়েছেন—এমন ব্যবসায়ীরা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট (নগদ জমা) দিয়ে ৭ শতাংশ সরল সুদে ওই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। ওই ঋণের সুদের হার চক্রবৃদ্ধি হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে নিজ দপ্তরে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো জানান, আগামী ১ মে থেকে ভালো ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। ১২ বছরে এই টাকা পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। যাঁরা আগে ১০ শতাংশ কিংবা ১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছেন, সেটা তাঁদের দিতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ঋণখেলাপিদের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে গত বছর মার্চে একটি কমিটি করেছিলেন তখনকার অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখতকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছিল। নির্বাচনের কারণে কমিটি কাজ শেষ করতে পারেনি। গতকাল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভালো ঋণগ্রহীতাদের আমরা ১২ বছর সময় দিচ্ছি। যার যা ঋণ আছে ছোট বা বড়, সবাই প্রথমে মোট ঋণের ২ শতাংশ পরিশোধ করবে। আর যে ঋণটা বাকি থাকবে, সেটার ওপর তারা ৭ শতাংশ সরল সুদ দেবে। চক্রবৃদ্ধি দিতে হবে না। এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি, শেষ করতে সর্বোচ্চ এক মাস সময় লাগবে। কিন্তু এটা কার্যকর হবে ১ মে থেকে। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে কেউ ভালো, কেউ অসাধু। যাঁরা ভালো ঋণগ্রহিতা তাঁদের সুযোগ দেব। আর অসাধুদের এ সুবিধা দেওয়া হবে না। উল্টো তাদের পেনাল্টি দিতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল (এক) ডিজিটের হবে। এটা এত দিন আমরা করতে পারিনি। এখন আমরা সিঙ্গেল ডিজিট নিজেরাই করে দিচ্ছি। ’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা করলে সব সময় লাভ হবে, তা নয়। কখনো লাভ হবে, আবার কখনো লোকসান হবে। তবে ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করেন। ব্যবসায়ীরা যদি লাভবান হয়, তখন সরকারও কর পায়। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আবার কম্পানির যখন লোকসান হয়, তখন ব্যবসায়ীরা সরকার থেকে কিছুই পান না। এসব ত্রুটি দূর করা দরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা খারাপ ঋণগ্রহীতা, তাদের রেকর্ডই তো আছে। কারা ভালো আর কারা অসাধু ঋণগ্রহীতা, সেটা বের করার জন্য একটা স্পেশাল অডিটের ব্যবস্থা করেছি। এটার কাজ শুরু হবে। সেখান থেকেও জানতে পারব, কারা ভালো আর কারা খারাপ।’ নতুন ঋণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে যারা আসবে, তাদের জন্যও আমরা সুদের হার কমিয়ে দেব। একটা মার্কেট বেসড (বাজারভিত্তিক) সুদ হবে। সুতরাং সেটার ভিত্তিতে কেউ লোকসান করবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি (সম্পদ ব্যবস্থাপনা) করব। আমাদের ইনসলভেন্সি আইন তৈরি হচ্ছে।’

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে, তাদের জন্যও সুবিধা থাকছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য মতে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০.৩০ শতাংশ। এর বাইরে দীর্ঘদিন আদায় করতে না পারা যেসব ঋণ ব্যাংকগুলো অবলোপন করেছে, তার পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপন করা এ মন্দ ঋণ যুক্ত করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ হবে এক লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা