kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

পুলিশি হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদে বিক্ষোভ থানা ঘেরাও পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জে এক ছাত্রলীগকর্মীকে পুলিশি হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আজহারুল হক তমাল সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল হক বাবুলের ছেলে।

নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দুপুরে যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা কালীবাড়ি মোড়ে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে।

এদিকে তমালকে মারধরের অভিযোগে মো. আল-আমিন নামে এক পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রবিবার সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় যশোদলের টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে কয়েকজনকে নিয়ে ভোট দিতে যান তমাল। সময় শেষ হওয়ায় কর্তব্যরত বিচারিক হাকিম উবায়দা খানম তমালকে বাধা দেন। এর পরও তমাল কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে চাইলে হাকিমের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নেয়। সন্ধ্যার পর বিচারিক হাকিম থানায় গিয়ে তমালকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। তখন এক পুলিশ সদস্য তমালকে লাঠি দিয়ে পেটান। এতে আহত তমালকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তমালকে হাতকড়া পরাতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। তখন পুলিশ তাঁকে মারধর করে। তিনি সামান্য আহত হন।

তবে তমালের বাবা শফিকুল হকের অভিযোগ, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত তমালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ বেআইনিভাবে নির্মমভাবে ছেলেটাকে পিটিয়েছে। চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে কারাগারে পাঠায়। আমরা সদর থানার ওসির প্রত্যাহার ও অন্য অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করছি।’

তবে পুলিশ বলছে, গতকাল দুপুরে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল থেকে দণ্ডিত তমালকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশের প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ হাসপাতাল থেকে তমালকে নিয়ে কারাগারে পাঠায়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ আন্দোলনকারীদের বলেন, যে পুলিশ সদস্য অন্যায় করেছেন তাঁকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনায় আরো কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা