kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

জাতিসংঘ মহাসচিবের উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা বিশ্বে মানবতাবাদী তিন নেতার একজন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান বিশ্বের মহানুভব ও মানবতাবাদী তিন নেতার অন্যতম হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ১৯৭১ সালের গণহত্যাবিষয়ক এক সেমিনারে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে তিনি তিনজন মহানুভব নারী দেখতে পান। তাঁদের একজন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, যিনি নিজের রাজনৈতিক ঝুঁকির কথা জেনেও সিরিয়ার শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছেন।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে আদামা দিয়েং বলেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, যখন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সংকট শুরু হলো, তিনিও দুই হাত বাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানালেন। বাংলাদেশের এই অসাধারণ আতিথেয়তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এরপর তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডর্নের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘যখন আমরা বিশ্বে বর্ণবাদের বিস্তার দেখছি, তখন একটি দেশের নেতা তাঁর মাত্র দেড় শতাংশ সংখ্যালঘুর জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছেন।’

আদামা দিয়েং বলেন, এই দেশের নারীদের ক্ষমতায়ন গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের পড়ালেখা করা উচিত নয়—একজন ইমামকে যখন এ কথা বলতে শুনি তখন আমি অসুস্থ হয়ে যাই। কতটা অজ্ঞ ওই ইমাম! আপনারা জানেন, শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্মে শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগের কথা বলেছেন।

আদামা দিয়েং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

মিয়ানমার নিয়ে বিশ্ব সতর্কবার্তা শোনেনি, আজ পরিণতি দেখছে : মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার অনেক আগে থেকেই সতর্ক করা হলেও বিশ্ব তা শোনেনি বলে জানিয়েছেন গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং। তিনিসহ অন্য বক্তাদের বক্তব্যে ঘুরেফিরে আসে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রসঙ্গ।

জাতিসংঘের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ দেশের সৌন্দর্যের টানে আমি ছুটে আসিনি। এসেছি পরিস্থিতি নিয়ে আমার দপ্তরের সুস্পষ্ট উদ্বেগের কারণে।’

আদামা দিয়েং বলেন, কোনো গণহত্যাই রাতারাতি ঘটে না। কখনো কয়েক বছর আবার কখনো বা কয়েক দশকও লেগে যায়। তাঁর দপ্তরের কাজ হলো গণহত্যার লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে আগাম সতর্ক করা। আগাম সতর্কতার পর জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা