kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দলের সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গণভবনে গতকাল আওয়ামী লীগের সঙ্গে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সমঝোতা স্মারক সই হয়। ছবি : বাসস

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাবশালী এ দেশটি প্রত্যাবাসন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক লিয়াজোঁ বিষয়ক মন্ত্রী সং তাওয়ের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পিচ রাইটার’ মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রতিক্রিয়ায় সং তাও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য চীন কাজ করছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাতে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ এবং সং তাও স্বাক্ষর করেন।

জনগণের যেন ক্ষতি না হয়

উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে জনগণের জীবন ও জীবিকা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম প্রকল্পের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে তিনি এই পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘উন্নয়নটা যেন মানুষের জন্য হয়, মানুষের ক্ষতি করে যেন উন্নয়ন না হয়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রকল্প করতে গিয়ে মানুষের জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। তারা যেন সময়মতো জমির যথাযথ মূল্য পায়, তাতে দৃষ্টি দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পিচ রাইটার’ মো. নজরুল ইসলাম।

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী নিয়ে বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। জাপানের সহায়তায় মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এই পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও হচ্ছে সেখানে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হলে শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটা সময় কক্সবাজারে কিছুই ছিল না। পুরো কক্সবাজারে লবণ চাষ হতো ও পান চাষ করত। কক্সবাজারকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’

১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তাঁর কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন।            ছবি : বাসস

এদিকে চিকিৎসা ও জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১০ জনকে মোট দুই কোটি সাত লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে তাঁর কার্যালয়ে অনুদানকৃত চেকগুলো ওই ১০ জনের কাছে হস্তান্তর করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সেই সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত এক ব্যক্তি এসব চেক গ্রহণ করেন।

ইরি-ব্রির মধ্যকার সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

দেশে ধানের উৎপাদন বাড়াতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ইরি মহাপরিচালক ড. ম্যাথেও মোরেল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পিচ রাইটার’ মো. নজরুল ইসলাম জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক আকারে লবণাক্ত, শীত, খরা এবং গভীর পানিসহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবনে

আরো বেশি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা