kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

জাতীয় কমিটির যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটির যৌথ সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বড় পরিসরে তৃণমূল পর্যন্ত উদ্যাপনের উদ্যোগ সরকার নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। গতকাল বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে, আমরা সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয় এবং বাংলাদেশকে যেন আমরা সারা বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারি।’

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁরই হাত ধরে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদ্‌যাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। সে কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন করবে বাংলাদেশ। মুজিব বর্ষ যথাযথভাবে উদ্যাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ও বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করা হয়েছে, গতকাল ছিল এর প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষ জুড়ে সারা দেশে সব জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অনুষ্ঠানমালা চলবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তাঁর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়াই সবার প্রতিজ্ঞা হোক, সেই প্রত্যাশা জানান তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জীবনের সব কিছু ত্যাগ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কষ্ট স্বীকার করেছেন। তাঁর কষ্টের ফসল হিসেবে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন দেশের মর্যাদা।’

দুই দশকের বেশি সময় এ দেশের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুকে আড়াল করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো একটা সময় ছিল ভাষা আন্দোলনে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) অবদান একেবারে মুছে ফেলা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর যে অবদান সেটা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। ২১ বছর এ দেশের মানুষ জানতে পারেনি। আসলে সত্যকে কেউ কখনো মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনো না কখনো উদ্ভাসিত হবেই। তার স্থানটা সে করে নেবেই। কাজেই আজকে কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই প্রমাণটা পাচ্ছি।’

সভায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভায় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সভায় নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা