kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর বর্ণিল উদ্‌যাপন

জাতীয় শিশু দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর বর্ণিল উদ্‌যাপন

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে গতকাল টুঙ্গিপাড়ায় আয়োজিত শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খুদে শিল্পীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন হলো গতকাল রবিবার। জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, গ্রন্থমেলা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপন করা হয়।

সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বিপুল মানুষের ঢল নামে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল অভিবাদন জানায়। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও কৃষক লীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

সকাল ৯টায় ১৪ দলের নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, গণতন্ত্রী পার্টির ডা. শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ঢাকা মেডিক্যালের নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেক কাটা হয়।      ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৃহৎ পরিসরে উদ্‌যাপন করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৃহৎ পরিসরে উদ্‌যাপন করতে চাই। এ জন্য পৃথিবীর বড় বড় কবি-সাহিত্যিকদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হাজির করা হবে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সত্তা। তাই বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা।’ হানিফ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাব। এটাই বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার।’

আলোচনাসভা : গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘এ  বাংলায় তুমি জন্মেছিলে বলেই আজ আমরা স্বাধীন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, শিশু দিবস পালনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর চর্চা ও ভাবনা পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকলে তবেই শান্তি থাকবে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর (ডিজি) খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ মো. এনামুল করীম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা