kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

গণহত্যাকারীদের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা!

রাখাইনে বিতর্কিত প্রকল্প

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণহত্যাকারীদের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা!

গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য মঞ্জুরি সহায়তা দেওয়ার পর এবার গণহত্যাকারী মিয়ানমারকেও সহায়তা দিচ্ছে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো এ জন্য বিশ্বব্যাংককে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সংঘাতময় রাখাইনে জাতিসংঘের ১০ কোটি ডলারের উন্নয়ন প্রকল্প সেখানকার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাতে পারে।

বিশ্বব্যাংক গত ১০ মে মিয়ানমারের অন্যতম দরিদ্রতম রাজ্য রাখাইনের জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব বিশদ আকারে প্রকাশ করেছে। এ প্রস্তাবে মিয়ানমার সরকারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহযোগিতা এবং কাজের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নেপিডোর ভাষ্যের আদলে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসের কারণেই সাত লাখেরও বেশি ‘স্বঘোষিত’ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।

গত সপ্তাহেই জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দল মিয়ানমার, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আর্থিক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের একঘরে করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরই মধ্যে রাখাইনে মিয়ানমার সরকারের বিতর্কিত প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে সংস্থাটির নৈতিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

মিয়ানমারে জাতিগত নির্মূল, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে আর মাত্র পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সব ধরনের অধিকারবঞ্চিত হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সেখানে রোহিঙ্গাদের নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের বসতি গুঁড়িয়ে তারা সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। রোহিঙ্গাদের বসতভূমিও রাখাইনদের দিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। এমন প্রেক্ষাপটে রাখাইনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন রোহিঙ্গা নির্মূলে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে। এমন প্রেক্ষাপটে এক ডজনেরও বেশি বেসরকারি সংস্থা মিয়ানমারে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে যৌথ চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে। একই সঙ্গে ওই অর্থায়ন পরিকল্পনাকে ‘অচিন্তনীয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংক রাখাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকার কথা উল্লেখ করলেও অর্থায়নের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন করেনি। তবে রাখাইনের জনগণের উন্নয়ন চাহিদার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে না।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দেখতে গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে এ দেশে এসেছিলেন বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৮ কোটি ডলার মঞ্জুরি সহায়তার পর সম্প্রতি আরো সাড়ে ১৬ কোটি মার্কিন ডলার মঞ্জুরি সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে এখন গণহত্যা চালানো মিয়ানমারকেও সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

মন্তব্য