kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চৌদ্দগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

ধর্ষকের বাড়িতে জনতার রোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ মরা ডাকাতিয়া নদীতে পুঁতে রাখা ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষকের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক বাপ্পিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। তাওহীদা ইসলাম ইলমা (৯) নামের শিশুটি গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের মা হাছিনা বেগম ও এলাকাবাসী জানান, স্কুলছাত্রী ইলমাকে গত শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির জাকির হোসেনের বখাটে ছেলে মাঈন উদ্দিন বাপ্পি (২০) ও একই বাড়ির আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান (১৯) তেঁতুল খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাপ্পিদের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে প্রথমে লাশ বাপ্পির ঘরের সিলিংয়ের ওপর লুকিয়ে রাখে। পরে রাতে বাড়ির পাশের মরা ডাকাতিয়া নদীতে লাশটি কাঁথা মুড়িয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে। এদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ইলমাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। একপর্যায়ে শনিবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে বাপ্পিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডাকাতিয়া নদীর পানির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে। লাশটির সঙ্গে মোড়ানো কাথা ও মশারি ধর্ষক বাপ্পির বলে জানা যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ধর্ষক বাপ্পির দুটি ঘর, একটি খড়ের গাদা ও তার সহযোগী মিজানের দুটি ঘর ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইলমার মা হাছিনা বেগম আরো জানান, ধর্ষক বাপ্পির বাড়িতে একটি তেঁতুল গাছ রয়েছে। ইলমা স্কুল থেকে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই বাপ্পি তাকে তেঁতুলের প্রলোভন দেখাত। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে বাপ্পি ইলমাকে তেঁতুলের কথা বলেই তার ঘরে নিয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাপ্পিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা