kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিজারের ছয় মাস পর বের হলো গজ-ব্যান্ডেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মাস আগে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করেছিলেন চিকিৎসক। এরপর পেটের ব্যথা নিয়ে ছয় মাস দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে ফরিদপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফের অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেটের গজ-ব্যান্ডেজ বের করে আনা হয়েছে। ভেতরে পচন ধরায় চিকিৎসকরা তাঁর সুস্থতার বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ সোফিয়া বেগম (৪০) মাদারীপুরের কালকিনির শিকার মঙ্গল ইউনিয়নের চরফতে বাহাদুর গ্রামের তোতা হাওলাদারের স্ত্রী। ওই নারী আগেও দুটি সন্তান স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করেছেন। তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় তাঁর সিজার করা হয়।

গৃহবধূ সোফিয়ার স্বামী তোতা হাওলাদার বলেন, ‘ছয় মাস আগে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে আমার স্ত্রীকে মাদারীপুরের নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করি। সেখানকার চিকিৎসক রুনিয়া বেগম আমার স্ত্রীকে দেখে জরুরি সিজার করতে বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে সিজারে রাজি হলে সেদিনই এক মেয়েসন্তানের জন্ম দেয় সোফিয়া। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি এলেও আমার স্ত্রীর পেটের ব্যথা কমেনি। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ-রক্ত বের হয়। এ সমস্যা নিয়ে আবারও ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তখন চিকিৎসক পেটে প্রথমে ইনফেকশন, পরে টিউমারের  কথা বলে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার পরও স্ত্রী সুস্থ না হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মাদারীপুরেই অন্য এক গাইনি চিকিৎসককে দেখায়। স্ত্রী সুস্থ না হওয়ায় পরে তাকে নিয়ে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরাও আমার স্ত্রীর রোগ ধরতে পারেননি, সুস্থও হয়নি।’

তোতা মিয়া আরো বলেন, ‘গত ছয় মাস স্ত্রীকে চিকিৎসা করিয়ে একদম নিঃস্ব হয়েছি আমি। সর্বশেষ স্ত্রীকে নিয়ে আসি ফরিদপুরের শমরিতা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে বৃহস্পতিবার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ফজলুল হক শোভন অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করেছেন। বলেছেন ভেতরে পচন ধরেছে।’

 

সোফিয়ার ভাগ্নে আবুল হোসেন বলেন, ‘খালাকে ফেরত পাব কি না জানি না। এখন ওই চিকিৎসকের বিচার চাই। সরকার এমন ব্যবস্থা নেবে যেন আর কাউকে যন্ত্রণায় ভুগতে না হয়।’

এ ব্যাপারে চিকিৎসক মো. ফজলুল হক শোভন বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। অস্ত্রোপচার করে সোফিয়ার পেটের ভেতর   থেকে বড় একটি মব (অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত গজ-ব্যান্ডেজ) বের করেছি।’ তিনি বলেন, ‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা