kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন উদ্যমে সেই ‘মৃত্যুকূপ’ সচল

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন উদ্যমে সেই ‘মৃত্যুকূপ’ সচল

২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। গাজীপুরের পুবাইল গড়ে ওঠা ‘স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল’ নামের অবৈধ কারখানাটিতে প্রতিদিনের মতো চলছিল উৎপাদন। কাজ করছিল ৩০-৩৫ শ্রমিক। বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে ভস্মীভূত পুরো কারখানা। এতে মারা যায় কারখানার পাঁচ শ্রমিক। কারখানার সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়া এক রিকশাচালক ও রিকশার আরোহী স্কুল শিক্ষিকাসহ প্রাণহানি সব মিলিয়ে সাতজন। আহত হয় অনেকে। ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদনই কারখানাটির ছিল না। ওই দিন রাতেই জেলা প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান এবং শিল্প পুলিশের সহকারী পরিচালক ও ফায়ার সাভির্সের উপসহকারী পরিচালককে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জেলা সহকারী পরিচালককে প্রধান করে তিন সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুই কমিটিই দুর্ঘটনার জন্য সাতজনকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়।

তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এ বয়লার বিস্ফোরণে সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারো বিরুদ্ধে অপরাধ খুঁজে পায়নি পুলিশ। তিন বছর আগের ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অত্যন্ত গোপনে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। আদালত গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদনটি আমলে নিলে মামলা থেকে অব্যাহতি পান কারখানার মালিক-ব্যবস্থাপকসহ তিন আসামি।

মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে নতুন উদ্যমে ফের চালু হয়েছে পুরনো টায়ার বয়লারে পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল তৈরির ‘স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল’ নামের অবৈধ কারখানাটি। স্কুল শিক্ষিকাসহ সাত প্রাণ কেড়ে নেওয়ায় কারখানাটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘মৃত্যুকূপ’ নামে। এটি ফের চালু হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

ওই মামলায় যাঁরা আসামি ছিলেন তাঁরা হলেন কারখানার মালিক পুবাইলের বসুগাঁও এলাকার ইমান উদ্দিন, জমির মালিক বাছেদ বেপারী, কারখানার ব্যবস্থাপক মো. শাহীন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের সাবেক উপমহাপরিদর্শক মো. সহিদুল ইসলাম, তৎকালীন উপমহাপরিদর্শক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুরের তৎকালীন উপপরিচারক সোনিয়া সুলতানা ও পুবাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সুলতান উদ্দিন আহমেদ।

শনিবার দুপুরে স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যালে গিয়ে দেখা গেছে, বাইরে ১০-১২ ফুট লম্বা টিনের বেড়া দিয়ে চারদিক ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, কারখানার মূল ফটক ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে। ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। বহু ডাকাডাকির পর নুরুল হক পরিচয়দানকারী এক নিরাপত্তা প্রহরী জানান, ইমান উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বর্তমানে কারখানাটি চালাচ্ছেন। অনুমোদন আছে কি না তা তিনি জানেন না। এসব বিষয়ে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুস সালাম সরকার জানান, কারখানাটি ফের চালুর বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

কারখানার বর্তমান মালিক ফাতেমা বেগম বলেন, অভিযোগ পায়নি বলেই পুলিশ সাত মৃত্যুতে তাঁদের দোষী করতে পারেনি। কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। মৃত্যুভয়ে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে এটি ঠিক নয়। নিয়ম মেনেই তিনি কারখানা চালাচ্ছেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, অনুমোদন ছাড়া কারখানা চালানোর সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা