kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন

পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া সাংবাদিকের খোঁজ মিলছে না

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আমরা পুলিশের লোক দরজা খুলুন—এমন কথা বলে গত শুক্রবার গভীর রাতে ছেলেটাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। এখন পর্যন্ত ওর কোনো খোঁজ মেলেনি। আমার ছেলে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত নয়। এরপরও আইনের চোখে সে দোষী হয়ে থাকলে তার বিচার হোক। কিন্তু আমার ছেলে কোথায় তা আমাকে জানাতে হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের প্রতি এই আকুতি জানান শহরের সুলতানপুর ঝিলপাড়ার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেকের স্ত্রী ও নিখোঁজ আবদুল হাকিমের মা মোমেনা খাতুন। এ সময় নিখোঁজ হাকিমের স্ত্রী আলেয়া বেগম, ছোট ভাই আবুল কালাম ও ছেলে আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নিখোঁজ আবদুল হাকিম স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ইজি বাইক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে মোমেনা খাতুন বলেন, ‘শুক্রবার গভীর রাতে কে বা কারা বাড়ির দরজায় টোকা দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলে—আমরা পুলিশের লোক। এরপর তারা ঘরে ঢুকে আমার ছেলে আবদুল হাকিমকে তুলে নিয়ে যায়। আমার ছেলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এমন পরিচয় দিলে কথিত পুলিশ সদস্যরা বলে—ওসব এখন আর চলে না।’ তিনি বলেন, ‘কয়েকজন আমার ছেলেকে নিয়ে গেলেও সাদা পোশাকধারী কথিত পুলিশের চার সদস্য বাড়িতেই বসে থাকে। ভোরে তারা চলে যায়। এরপর থেকে আমি আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।’

সন্তানের খোঁজে ব্যাকুল মা আরো বলেন, ‘ছেলের খোঁজে আমি সাতক্ষীরা থানায় গিয়েছি। তারা বলেছে কিছু জানে না। গোয়েন্দা পুলিশে খোঁজ নিয়েছি। তারাও একই কথা বলেছে। সবশেষে র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের ভাষাও একই। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি।’

মোমেনা খাতুন বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে রাতে পুলিশ পরিচয়ে কারা তুলে নিয়ে গেল, তারা দুর্বৃত্ত নাকি সত্যিই পুলিশের লোক—তা আমার জানা চাই। আমি আবারও বলছি, আবদুল হাকিম আইনের চোখে কোনো দোষ করে থাকলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। কিন্তু সে কোথায় আছে, কেমন আছে—তা জানার অধিকার আমাদের আছে। আমি আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা