kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্কুলছাত্রী মুন্নি হত্যার দায়ে বখাটে এহিয়ার মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুনামগঞ্জের দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী হোমায়রা আক্তার মুন্নি হত্যার ঘটনায় আসামি এহিয়া সরদারের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার এ আদেশ দেন।

২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে বাসায় পড়ার টেবিলে খুন হয় মুন্নি। এ ঘটনায় তার মা রাহেলা বেগম বাদী হয়ে ১৮ ডিসেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ ঘটনার পাঁচ দিন পর আসামি এহিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্নীর বাবা হিফজুর রহমান ইতালিপ্রবাসী। মুন্নী ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে দিরাই পৌর শহরের আনোয়ারপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন মা রাহেলা বেগম। দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে মুন্নীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত সাকিতপুর গ্রামের বখাটে এহিয়া সরদার। এতে করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় মুন্নীর। তার মা গৃহশিক্ষক দিয়ে বাড়িতেই পড়ালেখার ব্যবস্থা করেন। এর পরও বাড়ির আশপাশে এসে উত্ত্যক্ত করত এহিয়া। একপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন মা রাহেলা বেগম। এ নিয়ে ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এহিয়া আর উত্ত্যক্ত না করার লিখিত মুচলেকা দেয়। এর পরও থেমে থাকেনি এ বখাটে। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাসায় গিয়ে মুন্নীকে হত্যার হুমকি দেয় এহিয়া। এর এক দিন পর পড়ার টেবিলে মুন্নীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে সে।

এ ঘটনার পর এহিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ঘাতককে ধরতে নির্দেশ দেয় পুলিশকে। ঘটনার পাঁচ দিন পর সিলেট থেকে এহিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে রায়ের খবরে মা রাহেলা বেগম সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। সহপাঠীরাও রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। মুন্নীর সহপাঠী রুবাইয়া আক্তার বলে, ‘মুন্নী খুব ভালো মেয়ে ছিল। তাকে বাঁচতে দিল না বখাটে। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা