kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোগী বাড়লেও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ছে না

আজ বিশ্ব কিডনি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই বাড়ছে কিডনি রোগের ঝুঁকি। চিকিৎসার মান বাড়লেও সেই তুলনায় এখনো বাড়ছে না ব্যবস্থাপনার পরিধি। বিশেষজ্ঞ চিকিেকর সংকট যেমন আছে, তেমনি প্রয়োজনীয় সচেতনতা কার্যক্রমও নেই। আবার কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের ডায়ালিসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ছে না। এখনো দীর্ঘ সিরিয়ালে থাকতে হয় রোগীদের, আবার খরচও তুলনামূলক বেশি। খরচ সামাল দিতে না পেরে অনেক রোগী মাঝপথেই নিঃস্ব হয়ে চিকিৎসা বন্ধ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। দেশের কিডনি চিকিৎসায় এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, কিডনি রোগীদের খুবই দুরবস্থা যাচ্ছে। চিকিৎসার সুযোগ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দেশে কোনো না কোনো পর্যায়ের কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যায়। আর তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ রোগীর ডায়ালিসিসের সুযোগ রয়েছে। বাকিদের মধ্যে অনেকেই শুধু পূর্ণাঙ্গ উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে।

এই কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারের এদিকে আরো নজর বাড়ানো দরকার। এখন দেশে ডায়ালিসিস সেন্টার আছে মাত্র ১৬০টি। কিন্তু প্রয়োজন আরো চার-পাঁচ গুণ। দক্ষ জনবলেরও অভাব রয়েছে। প্রয়োজন সারা দেশে কিডনি রোগের চিকিৎসা জোরালো করা। রোগীদের যাতে ডায়ালিসিসের জন্য ঢাকায় ভিড় না করতে হয়। এতে রোগীদের খরচ ও হয়রানি অনেক কমে যাবে।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘কিডনি স্বাস্থ্য-সর্বত্র সব সময়’। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ দিবস পালনে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ দিবসকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

ল্যাবএইড : গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় ল্যাবএইড হাসপাতালের উদ্যোগে নিজস্ব লেকচার গ্যালারিতে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম। আরো বক্তব্য দেন একই হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আছিয়া খানম, ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম, প্যানেল আলোচক অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর, অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার রায়, অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন চৌধুরী, ডা. মো. বাবরুল আলম, ডা. মনিরুজ্জামানসহ অন্যরা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে প্রতিবছর প্রায় ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। তাই কিডনি রোগ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সম্ভাবনা, কিডনি ডায়ালিসিসের মান উন্নয়নে করণীয় ও রোগের ধরন ও প্রকৃতি, রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আরো গুরুত্ব দেওয়া দরকার। সেমিনারে বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী নিজের কিডনি রোগ ও তাঁর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা