kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইয়াবা প্রচলনের হোতা রমজান আলীর হদিস নেই

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মারণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রচলন হয়েছিল যে কয়েকজনের হাত ধরে তাদের অন্যতম হচ্ছেন রমজান আলী ওরফে একটেল রমজান। টেকনাফ বাসস্টেশনের আলিশান পাঁচতলা ‘রমজান আলী টাওয়ারের’ ছাদে একটেল ফোন কম্পানির টাওয়ার বসানোর কারণে লোকে তাঁকে একটেল রমজান নামে চিনত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ইয়াবা পরিচিত হয়ে ওঠার আগেই রমজান আলী ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাধিক ব্যক্তি এই কারবারে যুক্ত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ সালের দিকে রমজান আলী টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান দেশে নিয়ে আসতেন। শুরুতে সড়কপথে নির্বিঘ্নে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাচার করে বিপুল অর্থ-বৈভবের মালিক হয়ে যান তিনি। বছর দুয়েক ইয়াবা পাচার করে তিনি পর্দার অন্তরালে থেকে টেকনাফ ও চট্টগ্রাম শহরে বিপুল সম্পদ ক্রয় করেন। টেকনাফ শহরের প্রথম পাঁচতলা বাড়িটি তাঁর ইয়াবা কারবারের টাকায় তৈরি। এ ছাড়া তিনি টেকনাফ শহরে মোহাম্মদ আলী মার্কেট কিনে নেন, যা পরবর্তী সময়ে রমজান আলী মার্কেট নামে পরিচিতি পায়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, টেকনাফ ডেইলপাড়া এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে রমজান আলীর একসময় সহায়সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে বার্মিজ সিগারেট পাচারকারীদের কাছ থেকে ২০০০ সালের দিকে তিনি সিগারেট কিনে দোকানে দোকানে সরবরাহ করতেন। এ সময় পাচারকারীদের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে এবং একই সময়ে মিয়ানমারে ইয়াবার পসার ঘটলে তিনি বাংলাদেশেও ইয়াবার চালান আনা শুরু করেন। এসব চালান ঢাকা-চট্টগ্রাম পাঠাতে এসব অঞ্চলের বড় মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। এভাবে দেশে নীরবে ইয়াবার বাজার সৃষ্টি হয়। দিনে দিনে ইয়াবা কারবারির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আস্তে আস্তে সীমান্ত এলাকাসহ দেশে মাদকের তালিকায় ইয়াবার পরিচিতি ঘটে এবং বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক ইয়াবা কারবারি রয়েছে যারা এলাকা ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা চট্টগ্রামে আত্মগোপনে রয়েছে, তারা আসলে কেউই রেহাই পাবে না। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে এলাকার বাইরে পালিয়ে থাকা ইয়াবা কারবারিদের অবস্থান নির্ণয়ের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা