kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঐক্যফ্রন্টকে সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যত কথা বলার আছে সংসদে বলুন, বাধা দেব না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের রায়। জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলব, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যত কথা বলার আছে বলুন, আমরা বাধা দেব না।’

গতকাল সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এর আগে শেখ হাসিনা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে শপথ নিয়ে সংসদে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যদের অনেকে সেনাপ্রিয় বলেন। দেশে এমন কিছু লোক আছে, দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আসলেই তাদের সুযোগ আসে, খুশি হন। তারা কে কী বলল কেয়ার করি না। আমি কেয়ার করি দেশের জনগণকে। তাদের মতো অত জ্ঞানী-গুণী না হলেও দেশকে আমরা উন্নয়ন করতে পারি, তা প্রমাণ করেছি।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, তা রক্ষা করাই আমাদের কাজ। দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্নীতি দূর করে উন্নয়ন করতে। মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি করছি। কারণ অসৎ উপায়ে বিরানি খাওয়ার চেয়ে সত্ভাবে বসবাস করে নুন খেলেও তৃপ্তি।’

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি।’ তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখানে ভুল-বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।’

কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ভূখণ্ডে শিক্ষা শুরু কওমি মাদরাসা থেকে। দেশে ২০ হাজারের মতো মাদরাসা রয়েছে। ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এতিম, গরিব, দরিদ্র ঘরের ছেলে-মেয়েরা সেখানে পড়তে যায়। এই মাদরাসাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কওমি মাদরাসা পাঁচটি বোর্ডে বিভক্ত ছিল। মাদরাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথাও চাকরি করতে পারত না। এরা তো দেশেরই সন্তান। কারিকুলাম তৈরি করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সে জন্য উদ্যোগ নিই। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে সমঝোতায় নিয়ে আসি, দেওবন্দের কারিকুলাম তারা গ্রহণ করেছে। দাওরায়ে হাদিসকে আমরা মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা