kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাঠমাণ্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর

পথ চেয়ে বসে থাকেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গত বছরের ১২ মার্চ নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার মৃত্যুমিছিলের যাত্রী ছিলেন রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়ার গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে বিলকিস আরা মিতুও। অথচ মিতু রাজশাহীতে মা-বাবার কাছে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আর ফেরেননি। সেই থেকে এখনো পথ চেয়ে আছেন বাবা গোলাম কিবরিয়া।

বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত নায়েক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এখনো অনেক রাতে স্বপ্নে দেখি মেয়ে বাসায় এসেছে। আমাদের সঙ্গে হাসছে, গল্প করছে। কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলেই দেখি সবই দুঃস্বপ্ন। এই স্বপ্ন আর কখনো বাস্তবে রূপ দেবে না। তার পরেও মন মানে না। তাই আজও পথ চেয়ে বসে থাকি হয়তো মেয়ে বাসায় ফিরবে।’

গোলাম কিবরিয়া জানান, তাঁর মেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে নিউ ইয়র্কে চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর বাড়িতে আসার কথা ছিল। এরপর বাসায় না এসে নেপাল ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান মিতু।

মিতু ছাড়া নিহত রাজশাহীর অপর পাঁচজন হলেন রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হাসান ইমাম ও তাঁর স্ত্রী কলেজ শিক্ষক হুরুন নাহার বিলকিস বানু, রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক আক্তার বেগম। নিহত অপরজন হলেন ঢাকায় একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান। রাকিবুল হাসান তাঁর স্ত্রী এবং রুয়েটের শিক্ষক ইমরানা কবির হাসির সঙ্গে নেপাল ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন।

নজরুল ইসলামের মেয়ে নারগিস আক্তার কাকন বলেন, ‘এখনো বাবা-মায়ের কথা মনে হলে রাতে ঘুমাতে পারি না। তাঁরা এভাবে আমাদের ছেড়ে যাবে ভাবতেও পারি না।’

রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক বলেন, ‘নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আমার দুলাভাই ও বোন মারা গেছে। বোন হুরুন নাহার বিলকিস বানু ও দুলাভাই হাসান ইমামকে হারিয়ে এখনো আমরা পথ চেয়ে থাকি তাদের আশায়। কিন্তু তারা তো আর আসবে না। তাদের এই শূন্যতা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা