kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাঠমাণ্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর

প্রিয়ক ও প্রিয়ন্ময়ী হারানোর বেদনা

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মহাসড়কের পাশে জনাকীর্ণ এলাকায় তিনতলা একটি বাড়ি। সেখান থেকে কয়েক মাস আগেও থেমে থেমে ভেসে আসত কান্নার শব্দ। প্রতিবেশীরা জানায়, এখন কান্না থামলেও প্রায়ই শোনা যায় প্রিয়জন হারানোর দীর্ঘশ্বাস। এ দীর্ঘশ্বাস বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত এফ এইচ প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগমের। দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগম তাঁর একমাত্র ছেলে প্রিয়ক ও নাতনি প্রিয়ন্ময়ীকে হারিয়েছেন।

গত বছরের ১২ মার্চ বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮কিউ ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজ ৭১ যাত্রী ও ক্রু নিয়ে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়েছিল। উড়োজাহাজে থাকা ৩২ বাংলাদেশি যাত্রীর পাঁচজনই ছিল গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ছিলেন ফিরোজা বেগমের একমাত্র ছেলে এফ এইচ প্রিয়ক, প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানী, প্রিয়কের একমাত্র মেয়ে তামাররা প্রিয়ন্ময়ী এবং তাঁর (ফিরোজা বেগম) ভাইয়ের ছেলে মেহেদি হাসান মাসুম ও মাসুমের স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা। ভাগ্যক্রমে আলমুন নাহার অ্যানী, মেহেদি হাসান মাসুম ও তাঁর স্ত্রী বেঁচে ফিরলেও নিহত হন প্রিয়ক ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী।

টানা চিকিত্সায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন অ্যানী, মাসুম ও স্বর্ণা। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি মনে পড়লেই আঁতকে ওঠেন তাঁরা। দুর্ঘটনায় স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন অ্যানী। কখনো কাঁদতেন আবার কখনো হাসতেন তিনি। এরপর চিকিত্সায় স্বাভাবিক হলে প্রিয়কের মায়ের ইচ্ছায় আবার বিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এদিকে মেহেদি হাসান মাসুম জানান, তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘুমের ঘোরে ‘আগুন-আগুন, বাঁচাও-বাঁচাও’ বলে চিত্কার করে ওঠেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রিয়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুনসান নীরব বাড়ির বসার ঘরে দুজন মাদরাসাছাত্রের সঙ্গে কথা বলছেন ফিরোজা বেগম। তাঁর হাতে একটি ছবি। প্রিয়ন্ময়ীকে কোলে নিয়ে তোলা প্রিয়কের ছবি। বারবারই ছবিতে তাঁর অশ্রুর ফোঁটা পড়ছে আর আঁচল দিয়ে তা মুছে চলেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা