kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

উড়োজাহাজ বসিয়ে রেখে মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা গচ্চা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উড়োজাহাজ বসিয়ে রেখে মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা গচ্চা!

ফ্লাইট চলাচলে গতি আনতে মিসরের ইজিপ্ট এরারক্রাফট থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ড্রাই লিজে আনা উড়োজাহাজ দুটি বিমানবহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চ মাসে। বিমান দুটি কিছুদিন পর অকেজো হয়ে যায়। চুক্তি অনুযায়ী বিমান চলুক আর না চলুক মিসরের ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে বিমানকে। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মো. আসলামুল হক, তানভীর ইমাম, আনোয়ার হোসেন খান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটি সাবকমিটি গঠন করে দিয়েছি। সেই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলতে পারব এয়ারক্রাফট ভাড়ার বিষয়টি। তবে এ ক্ষেত্রে কী ক্ষতি হলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা দেখব মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারা চুক্তি করেছিল, সেটা যথাযথ ছিল কি না।’

বৈঠকে জানানো হয়, মিসর থেকে যে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়েছিল এর একটি এরই মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বিমানের। অন্যটিও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মিসর থেকে ত্রুটিপূর্ণ বিমান ভাড়া করার ক্ষেত্রে যে অসম চুক্তি করা হয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয় কমিটি। পাশাপাশি যারা ওই চুক্তির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বিমানের কোনো বড় ধরনের চুক্তি বা ক্রয়সংক্রান্ত বিষয় হলে কমিটিকে অবহিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বিগত দশ বছরে বিমানের কী কী যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রত্যেক মাসের ১৭ তারিখে অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ১৭ জনকে ১৭ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র মতে, বৈঠকে পর্যটনশিল্পকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বলা হয়।

মন্তব্য