kalerkantho

নড়াইলে সুলতান মেলা ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শেষ হচ্ছে কাল

স্থায়ী আর্ট গ্যালারির দাবি চিত্রশিল্পীদের

নড়াইল প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৪তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে চলছে ১০ দিনব্যাপী সুলতান মেলা। এবারের মেলায় সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী। মেলা শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২ মার্চ শুরু হওয়া এই চিত্র প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। বাংলাদেশসহ মোট ১১টি দেশের চিত্রশিল্পীদের ১১৮টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।

খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া গত ৩ মার্চ এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই দিন সুলতান মঞ্চের পাশে ভিক্টোরিয়া কলেজের দর্শন বিভাগের হলরুমে শুরু হয় আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী। হলের দুটি কক্ষ আর বারান্দা জুড়ে রয়েছে নানা ধরনের চিত্রকর্ম। শিল্পী সুলতানের আঁকা ‘ফাস্ট প্লান্টসহ কয়েকটি ছবির রেপ্লিকা, দেয়ালজুড়ে বিদেশি শিল্পীদের আঁকা ছবি নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ।

ভারতের ২৩ জন চিত্রশিল্পীর ছবি ছাড়াও প্রদর্শনীতে রয়েছে নেপালের জয়তী প্রকাশের ‘পেইন্টার্স এক্সপ্রেশন’, তাইওয়ানের দারিউস রাফেলোর ‘নেচার’, যুক্তরাষ্ট্রের জিম ম্যাথিউর ‘নেচার’, ইরানের মাশা ইসাপরের ‘ওমেন’, জাপানের সেসটু তানাকার ‘রিপ্রিটেশন’, কানাডার জুলিয়ান পিটার্সের ‘নেচার’, শ্রীলঙ্কার জুফার সাদিকের ‘ফ্লাওয়ার’, নেপালের দিপেন্দ্র বানেপালির ‘ল্যান্ডস্কেপ’, ইতালির আন্না ম্যাসাইনিসার ‘ফ্লাওয়ার’, জিম্বাবুয়ের হাজভিনাই ব্রিজেট মুতাসার আঁকা ‘এসপিরেশন’ ইত্যাদি।

প্রদর্শনীতে নড়াইলের শিশুশিল্পী ও সুলতান শিষ্যদের ২০টি ছবি রয়েছে। স্থানীয় চিত্রশিল্পী সাকি ইসলাম বলেন, ‘প্রদর্শনীতে ১০টি ভিন্ন দেশের নামি শিল্পীদের ছবির পাশে আমার আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে। এতে আমি খুবই আনন্দিত। প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন হবে।’

ভারত থেকে আসা চিত্রশিল্পী সুমিত দাস ও জয়ন্ত খান বলেন, ‘শিল্পী এস এম সুলতানের জন্মভূমিতে আসতে পেরে আমরা ধন্য হয়েছি। তাঁর শিল্পকর্ম আমাদের উজ্জীবিত করে মানুষ নিয়ে ভাবতে, পারিপার্শ্বিক জগৎ নিয়ে ভাবতে। সুলতানের নামে এত বড় মেলায় ছবি প্রদর্শনী করতে পারাটা ভাগ্যের  ব্যাপার।’

সুলতান শিশুস্বর্গের শিক্ষক শিল্পী নয়ন বৈদ্য বলেন, ‘এত বড় একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হচ্ছে এই ছোট্ট পরিসরে—এটা আমাদের ব্যর্থতা। এটা এ ধরনের প্রদর্শনীর জন্য উপযুক্ত নয়।’

প্রদর্শনীর সদস্য সচিব চিত্রশিল্পী সমির কুমার বৈরাগী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কোনো শিল্পীর মেলায় এত দেশের চিত্রকর অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকার বাইরে এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনী।’

মন্তব্য