kalerkantho

ডাকসুর প্রথম ভিপি ছাত্র ইউনিয়নের ♦ শেষবার ছাত্রদলের

২৮ বছর পর আজ কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৮ বছর পর আজ কে?

বিভিন্ন ধরনের বাধা পেরিয়ে ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৮ বছর ৯ মাস। প্রায় তিন দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেও যারা ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি তাদের আক্ষেপ যেমন থেকেই যাবে, তেমনি যারা আজ ভোট দিচ্ছে তারা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবার মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৬ জন। ডাকসুতে ২৫টি পদের জন্য লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। পাশাপাশি হল সংসদেও ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে একজন ভোটারকে মোট ৩৮টি ভোট দিতে হবে। ১৮ আবাসিক হলে মোট প্রার্থী ৫০৯ জন। তবে হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ৩৭ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ডাকসুতে পৃথক প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মুক্তিজোট, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। তবে ছাত্রলীগ ছাড়া কোনো সংগঠনই ডাকসু নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেল দিতে পারেনি।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ডাকসুর প্রথম নির্বাচন হয় মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ২০ মে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন সক্রিয় ছিল প্রধান দুটি সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সে সময় বিপুল বিজয় পায় ছাত্র ইউনিয়ন এবং সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এরপর ১৯৭৩ সালে আগের ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জোট বাঁধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই দুই ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেলের নাম দেওয়া হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এ ছাড়া ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আর সর্বশেষ ১৯৯০ সালে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান।

জানা যায়, এবার ভোটারসংখ্যা হচ্ছে অমর একুশে হলে এক হাজার ৩৪০, শহীদুল্লাহ হলে দুই হাজার ৪১, ফজলুল হক মুসলিম হলে দুই হাজার ৭০, স্যার এফ রহমান হলে এক হাজার ৮৩১, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে দুই হাজার ২৬০, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে এক হাজার ৯৮২, সূর্যসেন হলে দুই হাজার ১৭০, বিজয় একাত্তর হলে তিন হাজার ১৫৩, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে দুই হাজার ২৫৭, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এক হাজার ৭৯৬, কবি জসীমউদ্দীন হলে এক হাজার ৬৩৮, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এক হাজার ৮০১ এবং জগন্নাথ হলে দুই হাজার ৪৪৩ জন।

মেয়েদের হলগুলোর মধ্যে কবি সুফিয়া কামাল হলে তিন হাজার ৭১০ জন, কুয়েত-মৈত্রী হলে এক হাজার ৯২০ জন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে দুই হাজার ২৪৪ জন, রোকেয়া হলে চার হাজার ৫৩০ জন এবং শামসুন্নাহার হলে তিন হাজার ৭৩৭ জন ভোটার রয়েছে।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয় ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় ৩ মার্চ। এরপর থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ পান প্রার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা